নদীবেষ্টিত বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামে সার ও কীটনাশকের ভূয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে ও তথ্য গোপন করে ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জনৈক বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিধি মোতাবেক সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একই পরিবারের একজনের ডিলারশিপ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত খুচরা বিক্রেতার আইডি কার্ড থাকলে, পরিবারের অন্য কেউ ডিলারশিপের জন্য আবেদন করতে বা বিক্রেতা হতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য পিতা-মাতা, স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্র ও তাদের স্ত্রী, অবিবাহিত কন্যা ও নির্ভরশীল ভাই-বোন যারা এক খানায় খাদ্য গ্রহণ করে তাদের মধ্য থেকে কেউ আবেদন করতে পারবেন না। কিন্তু বিউটি বেগম এবং তার স্বামীর নামে অন্য জেলা ভোলায় দুটি সারের লাইসেন্স রয়েছে। তারা তথ্য গোপন করে ভোটার পরিবর্তন করে নতুন করে আবার মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেছেন।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, বিউটি বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আলম খন্দকারের নামে ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নে জনতা বাজারে খুচরা বিক্রেতার সারের সাব ডিলারশিপ রয়েছে। তারপরেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিধি উপেক্ষা করে বিউটি বেগম কর্নরোকপুর মোল্লা বাজার ভোলায় মেসার্স জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স নামে আরো একটি সারের ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। জাহাঙ্গীর ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিউটি বেগম নিজেই (যার লাইসেন্স নং ৬১৭)।
সূত্রমতে, আলিমাবাদ ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য বিউটি বেগম তার পূর্বের ভোলার ভোটার ঠিকানা তড়িঘড়ি করে পরিবর্তন করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে বিউটি বেগমের পিতা-মাতা, স্বামীসহ পরিবারের সকল সদস্যর স্থায়ী ঠিকানা ভোলা এবং তারা সবাই ভোলায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট সরকারি বিধি মোতাবেক সারের ডিলারশিপ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে কৃষি অধিদপ্তর। অন্যদিকে বিউটি বেগম তার ভোটার পরিবর্তন করে নিয়ে আসে ২০ আগস্ট। চলতি বছরের ২০ আগস্ট ভোটার পরিবর্তন করে ২২ আগস্টের একটি ট্রেড লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়। অপরদিকে ২০২৫ সালের একটি নাগরিক সনদপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নে আরো একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারের জন্য আবেদন করা সত্বেও অদৃশ্য কারণে অন্য জেলার একজন নারীকে তড়িঘড়ি করে ভোটার পরিবর্তন করে ডিলারশিপের জন্য মনোনীত করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে এতো দ্রুত ভোটার তালিকার স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব তানিয়েও স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিউটি বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সবুজ হোসেনের শ্যালিকা। তিনি নিজেই সকল কাগজপত্র বিউটি বেগমের নামে তৈরি করে দিয়ে সারের ডিলারশিপটি নিজেই পরিচালনা করবেন। এব্যাপারে বিউটি বেগমের বোনজামাতা ও চারিত্রিক সনদ প্রদানকারী ইউপি সদস্য মো. সবুজ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়, কিভাবে কি করেছি সে ব্যাপারেতো আর আপনাকে বলবোনা। তবে আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের বলেন, উক্ত নম্বরের ইস্যুকৃত ট্রেড লাইসেন্সটি বিউটি বেগমের নামে ইস্যু হয়নি এটি একটি অন্য এক ব্যক্তির নামে রয়েছে। বিউটি বেগমের নামের ট্রেড লাইসেন্সটি সম্পূর্ণরূপে অবৈধভাবে তৈরিকৃত ভুয়া একটি ট্রেড লাইসেন্স। বিউটি বেগমের ট্রেড লাইসেন্সের কোন ডকুমেন্ট আমাদের ইউনিয়ন পরিষদে নেই। এ বিষয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর বসু জানিয়েছেন, আমরা কাগজপত্র দেখে নিয়মমোতাবেক বিউটি বেগমকে সারের ডিলারশিপের জন্য নাম পাঠিয়েছি। তবে তার কাগজপত্রে যদি কোন ঘাটতি থাকে তা খতিয়ে দেখা হবে।