অবিলম্বে ভুয়া, জালিয়াতি ও দুর্নীতিগ্রস্ত বিসিআইসি সারেরকঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনের হুসিয়ারী দিয়েছে দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারের ডিলার নিয়োগে নজিরবিহীন অনিয়ম, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ডিলার প্রদান, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি’র মাধ্যমে আর্থিক দুর্নীতি, নিষিদ্ধ আওয়ামী পরিবারকে পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং জেলাজুড়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিনাইদহ জেলা আমীর ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর। সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, জামায়াত নেতা আব্দুল আলীম, মহেশপুর জামায়াতের ড. আব্দুল হাই এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর ড. হাবিবুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয়, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সারের ডিলার নিয়োগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক কার্যক্রম হলেও ঝিনাইদহের সবকটি উপজেলায় কোনো প্রকার যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতা তোয়াক্কা করা হয়নি। শুধুমাত্র মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে বিসিএস ক্যাডারের মা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ছাত্র, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের আত্মীয়স্বজন ও গৃহকর্মীদের মাঝেও এই ডিলারশিপ ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলাভিত্তিক সারের ডিলারশিপে জালিয়াতি ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করে বলা হয়, কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্সের নামে জেলা বিএনপি এমএ মজিদের সভাপতির শ্যালক এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে মেসার্স সুরমা হাসান ট্রেডার্সের নামে তাঁর বড় শ্যালকের স্ত্রীকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। মহেশপুর উপজেলার শ্যামকূড় ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনার শ্যালক ও যুবলীগ সভাপতির ভাই এহসান রেজাকে মেসার্স আবুল ফজল ট্রেডার্সের অনুকূলে এবং আজমপুর ইউনিয়নে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক জাবেদ ইকবালকে মেসার্স খান ট্রেডার্সের নামে ডিলার বানানো হয়েছে।
নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা আবু বকর বলেন, হরিণাকুণ্ডুর দৌলতপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এমপিওভুক্ত শিক্ষক আনিসের স্ত্রী ও বিসিএস ক্যাডার শামীমা নাজরিনের মা আনোয়ার নাসরিনকে, বিএনপির জেলা সভাপতির ভাই আব্দুল লতিফকে চাঁদপুর ইউনিয়নে, ভায়না ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সভাপতির ভাই ওবাইদুরকে মেসার্স মীম ট্রেডার্সের নামে এবং ফলসী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি তাইজাল হোসেনকে জিহান ট্রেডার্সের নামে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে গুদাম বা আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য শোয়েবুর রহমানকে সোহাগ ট্রেডার্সের নামে, সাধুহাটী ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতির গৃহকর্মী আনোয়ার হোসেনকে, নিজস্ব গুদাম ও আর্থিক সঙ্গতিহীন হলিধানী ইউনিয়নে আমির এন্টার প্রাইজ, পাগলাকানাই ইউনিয়নে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা রাকিব হাসানের মেসার্স বন্ধন এন্টারপ্রাইজ এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি সভাপতির দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে সারের ডিলারশিপ তুলে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনিক স্তরের লুটপাট ও নৈরাজ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি কমিটিতে বাণিজ্য ও অর্থের বিনিময়ে বদলির ব্যাপক অনিয়ম চলছে। এছাড়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডুতে জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে অন্তত ৮ জনকে রক্তাত্ত করা এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা রোডের ১৮ মাইলসহ বিভিন্ন মহাসড়কে ইজিবাইক ও যানবাহন চলাচলে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। সম্প্রতি জেলা পরিষদে অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্বজনদের বঞ্চনার শিকার করে কর্মকর্তাদের আত্মীয়দের চাকরি দেওয়ার বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সম্মেলন থেকে জামায়াত নেতারা সারের ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত সকল নথিপত্র পরীক্ষা করে অবৈধ ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল ডিলারশিপ ও বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং ও ডিলারশিপ বাছাই কমিটি বাতিল, মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বন্ধ, সার-তেল-গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কমানো এবং শিক্ষক বদলি কমিটিতে রাজনৈতিক সুপারিশ বন্ধ রাখার জোর দাবি জানানো হয়।