আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়ায় মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃ্ষ্িট হয়েছে।
নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত দীনবন্ধু সরকারের ছেলে দিপক সরকার ছট্টু ও ডাঃ খোকন সরকার নওয়াপাড়া মৌজায় মৎস্য ঘেরে মাছ চাষ করেন। তাদের ঘেরে বিষ প্রয়োগে মাছ মারা গেছে দাবী করে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে এবং সেখানে কেয়ামুদ্দিন, আঃ রশিদ, মোখলেছ, আজিমুদ্দিন ও জলিলের সাথে পূর্ব শত্রুতার অভিযোগ করে তাদেরকে জড়িয়ে মানহানিকর কাল্পনিক দোষ খোজার চেষ্টা করা হয়। জানতে পেরে কিয়ামুদ্দিন গং বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে প্রতিকার প্রার্থনা করে দিপক ও খোকনকে বিবাদী করে অভিযোগ করেন। পুলিশ নোটিশ করলে প্রাথমিক শুনানি হয়। মাছ নিধনের ব্যাপারে কোন প্রমান হাজির করতে পারেনি। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপর ফয়সালার দায়িত্ব দেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত গন্যমান্য ব্যক্তিগণ গত ১৩ অক্টোবর উভয় পক্ষকে নিয়ে বসলে সেখানেও কোন স্বাক্ষী বা প্রমানাদি হাজির করতে পারেননি। শুনানির এক পর্যায়ে দিপক গং জানায় তারা আদালতে মামলা করেছে, বসাবসিতে তারা থাকবেননা।
স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করার কোন নজির তারা দেখতে পাননি। তাদের ধারনা ঘের মালিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরা মাছ কিনে এনে মৎস্য ঘেরের পানিতে ফেলে রাখে। পরে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে এমন মনগড়া কাহিনী স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে প্রদান করে।
এদিকে ১৪ অক্টোবর সকালে দিপক গং ঘেরে জাল টেনে মাছ ধরার কাজ করছিল। এসময় কিয়ামুদ্দিন গং এর আহবানে ঘটনা দেখতে স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপি সেক্রেটারি তারিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড জামাতের সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম বাবু, জামাত নেতা আফতাবুজ্জামান সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। জাল ঘেরের কিনারায় আসলে দেখা যায় মৎস্য ঘেরে পর্যাপ্ত পরিমানে মাছ রয়েছে। মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ করলে এত মাছ থাকার কথা ছিল না।
মাছ দেখে স্থানীয়রা মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যমূলক বলে প্রকাশ করে বলেন, দীপক কুমার ছোট্টু ও খোকা এলাকায় মামলাবাজ নামে পরিচিত। তারা নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে থাকেন বলে জানান আরো অনেকেই। তাদের এ মিথ্যা মামলার হাত থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।