কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন, যশোর। এরই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ০৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ছয়টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সাত দিন রিজিয়নের আওতাধীন বিজিবি ইউনিটগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। এ লক্ষ্যে রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প থেকে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, যশোর রিজিয়নের অধীন কুষ্টিয়া সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ চারটি জেলার মোট ৬৬টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় ৭০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।

কুষ্টিয়া জেলা এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  ০৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সীমান্ত থেকে ০৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ০৫ প্লাটুন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের ০৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ০৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ইতোমধ্যে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে অদ্যাবধি মোট ৪০টি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপগুলো একাধিকবার রেকি ও পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি, পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও আয়োজক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমেও তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মোতায়েনকৃত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রেখেছেন। পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তার দায়িত্বপূর্ণ দুই জেলার প্রায় ৮১.৫ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্ত সুরক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা তৎপর রয়েছে। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যরে এক অনন্য উদাহরণ। এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সর্বস্তরের নাগরিক, পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)। বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে