কানাইঘাটে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ

এফএনএস (এইচ এম শহীদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
কানাইঘাটে জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ

সিলেটের কানাইঘাটে বসতভিটার ২৪ শতক জমি থেকে উচ্ছেদ করতে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বড় চতুল ইউনিয়নের পর্বতপুর-রতনপুর গ্রামের হোসেন আহমদ। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে দীর্ঘদিন কারাভোগ করতে হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হোসেন আহমদ। তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নির্দোষ দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আহমদ বলেন, তিনি নিজে ২২ মাস ১৫ দিন, তাঁর ছোট ভাই মাহমুদ আলী ২২ মাস, ভাতিজা আম্বিয়া সাড়ে তিন মাস এবং দুই ছেলে কামরুল ইসলাম তিন মাসের বেশি ও দিলদার হোসেন ছয় মাস ১১ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি জুমার নামাজের সময় তাঁর ছোট ভাই মাহমুদ আলীর ছেলে আম্বিয়া বাড়ির পাশের সিংগাহের নদীর ধারে বসে ছিল। এ সময় গ্রামের নজরুল ইসলাম ও তাঁর জামাতা সাইফুল ইসলাম গরু চুরির অভিযোগে আম্বিয়াকে ধরে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

খবর পেয়ে মাহমুদ আলী সেখানে গেলে তাঁকেও দা, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হোসেন আহমদ ও তাঁর দুই ছেলে কামরুল ইসলাম ও দিলদার হোসেন সেখানে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে গ্রামবাসী তাঁদের উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে হোসেন আহমদ ভর্তি হন এবং অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর নজরুল ইসলামের বাড়িতে গ্রামবাসীর একাংশ গেলে উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাম্মৎ আফিয়া বেগম তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন বলে জানান হোসেন আহমদ।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি কানাইঘাট থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। শুরুতে মারামারি, হামলা, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পরে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এতে গ্রামের আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। তাঁর দাবি, তাঁরাও কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হোসেন আহমদ আরও অভিযোগ করেন, মামলার কারণে তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে থাকতে হয়েছে। তাঁদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাট ও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে হোসেন আহমদ জানান, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। মামলায় মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কয়েকজন বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস করে খালাস পেতে পারেন। বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা ও হত্যা মামলার বিষয়ে ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান হোসেন আহমদ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে