কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় সনদ, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র, হোল্ডিং-সংক্রান্ত সেবা ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে দিনের পর দিন পৌর কার্যালয়ে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। ফাইল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রে স্বাক্ষরে দীর্ঘসূত্রিতা ও গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রাতের বেলা পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে, যা জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর প্রশাসক মাঝে মাঝে অফিসে উপস্থিত হলেও নাগরিক সেবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে নানা গড়িমসি করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক নাগরিক সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাচ্ছেন না। এতে প্রবাসীদের ভিসা সংক্রান্ত কাজ, ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম আটকে গিয়ে ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিয়মিত পৌর কর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও একটি কাগজের জন্য দিনের পর দিন পৌরসভায় দৌড়াতে হয়। অথচ শেষ মুহূর্তে প্রশাসকের স্বাক্ষরের মারপ্যাচে মাসের পর মাস সময় নষ্ট হচ্ছে যেমন, তেমনি জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন বলে নানা অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পৌরবাসভার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকার অনেক ল্যাম্পপোস্টে বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কোথাও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট বাতি পরিবর্তন করা হয়নি, আবার কোথাও ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও আলোর ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়রা বলছেন, অন্ধকারের কারণে দুর্ঘটনা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, পৌর নথিপত্রে দ্রুত স্বাক্ষরের ব্যবস্থা এবং দ্রুত নষ্ট লাইটগুলো মেরামত ও নতুন বাতি লাগিয়ে অন্ধকার সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা দ্রুত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
পৌর সুপারভাইজার নাদিমুল হক বলেন, আসলে পৌরসভার অফিসিয়াল কাজকর্ম যথাসময়ে করা হলেও বিভিন্ন নথিপত্র পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষরজনিত কারণে সময়মতো ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। কারণ পটপরিবর্তনে মেয়রশূন্য পৌরসভা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। উনি একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত, ফলে সময় দিতে পারেন না। যে কারণে স্বাক্ষরে বিলম্ব ঘটে, আমরাও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ দিতে পারিনা। খুব সমস্যা ও চাপের মুখে পড়তে হয় আমাদের। পৌরপ্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিস নাসরিন আক্তার বলেন, আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। এই বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।