“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গানের এই কথাগুলো যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে বরিশালের বাবুগঞ্জে। সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে অসহায় হয়ে পড়া আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর এবার তাঁর জীবিকা নির্বাহের জন্য ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান উপহার দিয়েছে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। শেখ মো. আমজাদ হোসেন (৪৫) বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজকর এলাকার সরকারি গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে মীরগঞ্জ-রহমতপুর সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো অর্থ শেষ হয়ে যায়। একপর্যায়ে পায়ে জটিলতা দেখা দিয়ে পচন ধরতে শুরু করলে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে তাঁর জীবন। এমন পরিস্থিতিতে আমজাদ হোসেনের পাশে দাঁড়ায় হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে আবারও দুই পায়ে হাঁটার উপযোগী হয়ে ওঠেন তিনি। তবে সুস্থ হওয়ার পর জীবিকা নির্বাহের কোনো অবলম্বন না থাকায় নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েন আমজাদ। তাঁর এই অসহায়ত্ব বিবেচনায় নিয়ে এবার স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ফাউন্ডেশনটি।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাবুগঞ্জে ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ের সামনে আমজাদ হোসেনের হাতে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চাবি তুলে দেন হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ। এ সময় ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। চাবি হস্তান্তরকালে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. আসাদুল্লাহ বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করাই ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য। আমজাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পর এবার জীবিকা নির্বাহের জন্য ভ্যানটি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করে পরিবার চালাতে পারেন। ভ্যান উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর তাঁর জীবন কঠিন হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে, এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য ভ্যানও দিয়েছে। এতে নিজের উপার্জনে সংসার চালানোর নতুন সুযোগ পেয়েছেন তিনি। চিকিৎসার মাধ্যমে হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিয়ে আমজাদ হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। তাদের এই উদ্যোগে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন অসহায় এই মানুষটি। হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন এর এই উদ্যোগ ভূপেন হাজারিকার গানের মতোই মানবিক সহায়তার মধ্য দিয়ে আবারও ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ।