মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাকের হোসেন মাগুরা পৌরসভার পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে। তিনি পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে কাউন্টারে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো একটি ক্ষতচিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসান জানান, সাকের হোসেনকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া যায়। তাঁর মাথার পেছনে ছিদ্রের মতো ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে সেটি গুলির আঘাতে সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের অস্থায়ী লাশঘরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, সাকের হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার, স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বিগত ১৭ বছরে বিভিন্ন সময়ে সাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ১০টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। তবে এসব মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, বুধবার সকালে যুবদল নেতা সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাঁর মাথার পেছনে একটি ছিদ্রের চিহ্ন রয়েছে। তবে সেটি গুলির আঘাত কি না কিংবা তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশের বিশেষজ্ঞ দলও তদন্ত শুরু করেছে। মৃত্যুর পেছনের কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, যুবদল নেতা সাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবিতে মাগুরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।