নীলফামারীর সৈয়দপুরে নির্ধারিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মাংস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মাংসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। অন্যদিকে, এ বিষয়ে কার্যকর তদারকি না থাকার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সৈয়দপুর পৌরসভা পশু জবাইয়ের জন্য কসাইখানা নির্ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে পশু জবাই করার নিয়মও রয়েছে। পাশাপাশি জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে। এ দায়িত্ব পালন করার কথা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার। পরীক্ষার পর পশুর শরীরে সিল দেওয়ার নিয়মও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় শতাধিক মাংস ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাঁদের রয়েছে নিজস্ব সমিতিও। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক পশু জবাই করা হয়। আর শুক্রবারের মতো ব্যস্ত দিনে এ সংখ্যা কয়েক শতে পৌঁছায় বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ব্যবসায়ী নির্ধারিত নিয়মের তোয়াক্কা না করে শেষ রাতে নিজেদের পছন্দমতো স্থানে পশু জবাই করে মাংস দোকানে নিয়ে আসেন। এতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে জবাই করা পশু সুস্থ নাকি রোগাক্রান্ত, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা। এ অবস্থায় রোগাক্রান্ত পশুর মাংস বাজারে বিক্রি হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস খেয়ে নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো চিকিৎসা বা পরীক্ষাভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে পৌরসভার কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সৈয়দপুর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ মো. আব্দুল করিম বলেন, তাঁরা আমাকে না ডাকলে আমি কী করব? যাঁরা পশু জবাইয়ের আগে আমার কাছে আসেন, সেগুলো আমি পরীক্ষা করি।
তবে নির্ধারিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাই বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং পৌরসভা ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হচ্ছে তা পরিস্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন,এটির দায়িত্ব হল প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার। তবে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বলছেন এ দায়িত্ব তার না। তাহলে প্রশ্ন হল আসলে এ দায়িত্ব কার তা জানতে চায় সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অনুমোদিত স্থানে জবাই এবং নিয়মিত বাজার তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাদিম বলেন,অনেকে নিয়ম মেনে পশু জবাই করছেন না। তাছাড়া ভোর বেলায় কে কোথায় পশু জবাই করে বাজারে নিয়ে আসছে তার কোন খবর পাওয়া যায় না। তবে সকল ব্যবসায়ীর উচিৎ নিয়ম মেনে পশু জবাই করা।