আন্দোলনের ভিডিও করায় প্রাণ গেল পরিবারের উপার্জনক্ষম পোশাক শ্রমিকের

এফএনএস গাইবান্ধা: | প্রকাশ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
আন্দোলনের ভিডিও করায় প্রাণ গেল পরিবারের উপার্জনক্ষম পোশাক শ্রমিকের

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে হামলার স্বীকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তরুণ শ্রমিক তৌফিক মিয়া (২০)। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন ছিল কর্মজীবনের মধ্য দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পাস করেন।

তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেন তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রদীপ কুমার। তিনি বলেন, তৌফিক মেধাবী ছাত্র ছিল। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের অভাব ঘোচাতে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়ে সে আহত হয়।

তিনি আরও বলেন, আমড়া শুনেছিলাম তৌফিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে খবর পাই, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। রাত ১১টার দিকে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে তৌফিক গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ ও হামলার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণের চেষ্টা করলে হামলাকারীদের আক্রমণের স্বীকার হন তৌফিক। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আন্দোলনরত অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

বাবাকে হারিয়ে যে বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তৌফিক, সেই বয়সেই অকালে থেমে গেল তার জীবন। পরিবারের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে ওঠা তরুণটির নিথর দেহ ফিরল গ্রামের বাড়িতে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে