নোয়াখালীর সেনবাগে দীর্ঘ ১৬ বছর পর উপজেলা স্টেডিয়ামে আবারও ফুটবল খেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ ফুটবল টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা স্টেডিয়ামটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় কেন্দ্রীয়ভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করার পর সারাদেশের মতো সেনবাগ উপজেলা স্টেডিয়ামেও খেলার উদ্বোধন করেন নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইরফানুল হক চৌধুরী সভাপতিত্বে সেনবাগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী প্রীতি ম্যাচে ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন দল ও নবগঠিত ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়ন দল মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। খেলা শেষে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নুল আবদিন ফারুক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, আনোয়ার হোসেন বাহার চেয়ারম্যান, সেনবাগ পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ ফারুক বাবুল, সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ, সাবেক আহ্বায়ক আবদুল হান্নান লিটন,মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খোরশেদ আহমেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান,ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ছিলোনিয়া ইউনিয়নের সাখাওয়াত হোসেন রিপন,নবীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন সোহেল, কাবিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহির, উপজেলা যুবদল নেতা মহিন উদ্দিন মহিন, কাবিলপুর ইউপির যুবদলের সদস্য সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন দুলাল, কাবিলপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল আহবায়ক মোঃ ইসমাইল, সদস্য সচিব সামছুল হক সামু। এছাড়াও উপজেলা, পৌরসভা ইউনিয়ন বিএনপি,যুবদল,ছাত্রদল,স্বেচ্চাসেবকদল,শ্রমিকদল,স্কু,কলেজ, মাদরাসার ছাত্রছাত্রী সহ বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার ক্রীড়া প্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন 'দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে স্টেডিয়ামটিতে কোনো নিয়মিত খেলাধুলা না হওয়ায় এটি একসময় গাছপালা ও আগাছায় ভরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। মাঠটি মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সম্প্রতি সংস্কার করে মাঠটি আবারও খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থানীয় কমিটির সভাপতি থাকা কলে তিনি স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে ছিলেন। শুরুতে এখানে খেলাধুলা হলেও পরবর্তী সময়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন খেলাধুলা না থাকায় মাঠটি মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। এতে এলাকার যুবসমাজের একটি অংশ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেনবাগের এই স্টেডিয়াম থেকে একদিন ম্যারাডোনা ও মেসির মতো বিশ্বমানের ফুটবলার তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন পর স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলা শুরু হওয়ায় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। খেলা উপভোগ করতে বিকেল থেকেই মাঠে দর্শকদের ভিড় জমে। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়ে উঠবেÑএমন প্রত্যাশা স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের।