মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ৯

এফএনএস (প্রতিবেদক): | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার ৯

রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে খুদে বার্তার মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি জানায়, হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মামলাটিতে প্রথম দফায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনকে আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হামলার পর ক্লিনিকের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের আরও অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এই ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে