রাজশাহীর তানোর সদর থেকে কাশিমবাজার হয়ে জেলার মোহনপুর থানার মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ সড়কটি সম্প্রতি গত কোরবানী ঈদের সপ্তাখানেক আগ থেকে সংস্কার কাজ শুরু হয়। ঈদের পর গত রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার তানোর সদরের হলের মোড় নামক স্থান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তত্ত্বাবধানে চলমান এ প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী। কাজ হচ্ছে সিডিউল উপেক্ষা করে দায়সারা ও তড়িঘড়ি ভাবে। সাইনবোর্ড ছাড়াই গোপনেই চলছে কাজ। এমনকি ভারী বর্ষণের মধ্যেও চলছে কার্পেটিং। এলাকাবাসীর দাবি, এই অনিয়মের তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের আগে প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য (ব্যয়, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, ঠিকাদার, সময়সীমা ইত্যাদি) সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন বাধ্যতামূলক। তবে এই প্রকল্পে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে স্থানীয়দের কাছে প্রকল্পের আর্থিক ও কারিগরি তথ্য অজানা রয়ে গেছে। ফলে সড়কের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের কাজ হচ্ছে না সঠিক নিয়মে। সেইসাথে বিটুমিন বা পিচের সঙ্গে একপ্রকার পোড়া মবেল মিশ্রন করে পাথর ছিটিয়ে রুলার ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে গর্ত হয়ে পাথর উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের কার্যাদেশ কিনে কাজটি করছেন রাজশাহী শহরের ঠিকাদার ও বিএনপি নেতা রজব আলী। কিন্তু তিনি সিডিউল অনুযায়ী উপযুক্ত মানের সামগ্রী ব্যবহার না করে কাজ করছেন। ফলে বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম, সাদিকুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান জানান- রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার তানোরে দিনভর ভারি ও গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তায় কার্পেটিং কাজ করা হয়। কাজের সময় সওজ-এর কোনো কর্মকর্তা সেখানে ছিলেন না উপস্থিত। এমন আবহাওয়ায় কার্পেটিং কাজ করলে রাস্তাটি হবে না টেকসই। একজন উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিং করা হলে রোলার দেওয়ার পর পিচ ও পাথর বসে না ঠিকভাবে। এতে থাকে না রাস্তার স্থায়িত্ব। এই রাস্তা নির্মাণের পরপরই নষ্ট হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ‘যা খুশি লেখেন, হবে না’ কিছুই। সওজ-এর একজন সহকারী প্রকৌশলী (এসও) পরিচয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, কাজ শুরুর পর বৃষ্টি শুরু হলে কিছুটা কার্পেটিং করে কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা ঠিক হয়নি। জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহীর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সড়ক উপ-বিভাগ-১) আব্দুল মান্নাফ আকন্দ এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা নষ্ট হলে আবার করে দেওয়া হবে বলে এড়িয়ে গেছেন। ঠিকাদার রজব আলী, যিনি বিএনপি নেতা হিসেবেও পরিচিত, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, তথ্য অফিসে আছে, আমাদের কাছে কিছুই নেই। কাজ দেখবে অফিস, সাংবাদিকের এখানে কাজ কী? যা খুশি লেখেন, হবে না কিছুই। ভাগ যায় ওপর মহলে। এলাকাবাসীর দাবি- নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে এমন কাজের তদন্ত হোক, থামুক অনিয়ম। স্থানীয়রা বলেন, আমাদের করের টাকায় এসব রাস্তা হয়, অথচ কেউ জবাবদিহি করতে রাজি নয়। রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি ভেঙে যায়, তাহলে কষ্ট করে উন্নয়নের নামে এত টাকা খরচ করার মানে কী বলে আক্ষেপ সচেতন মহল। এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রাজশাহী সওজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমনকি দুদক রাজশাহী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। ই/তা