জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বলে ওয়ারেশ কায়েম সনদ প্রদান

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বলে ওয়ারেশ কায়েম সনদ প্রদান

খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ আলী সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম এর সুপারিশে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে মিথ্যা ওয়ারেশ কায়েম সনদ প্রদান করেছেন। ভুক্তভূগী বিধবা আশালতা হালদার(৬৫) এর প্রতিবাদে শনিবার বিকালে ইউনিয়নের কাশিমনগর (মালোপাড়ায়) দুর্গাপূজা মন্দিরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এ সময় সাথে ছিলো তার দু’মেয়ে জামাই ও এলাকাবাসী। তিনি জানান, তার স্বামী (নীলকোমল হালদার) বিগত ২০২৩ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে স্ত্র্রী, এক পুত্র সত্যজিৎ হালদার, দুু’কন্যা মমতা বিশ্বাস ও মুক্তি সরকারকে রেখে স্বর্গবাসী হন। কন্যাদয়ের বিবাহের পর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি বসত বাড়ীতে একমাত্র পুত্র স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। কিছুদিন অতিবাহিত হবার পর কারনে-অকারনে পুুত্র ও তার স্ত্রী  তার সাথে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। একে পর্যায় নিরুপায় হয়ে কিছুদিন মেয়ে জামাই এর বাড়িতে অবস্থান করতে থাকি। এ অবস্থায় একমাত্র পুুত্র গোপণে সম্পত্তি বসতবাড়ী বিক্রয় জন্য জীবিত মাকে মৃৃৃত দেখান। গত ২৮ মে তার একমাত্র ছেলে সত্যজিৎ তার গর্ভধারিনী মা আশালতাকে মৃত দেখিয়ে একটি ওয়ারেশ কায়েম পত্রের আবেদন করলে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ড সদস্য মো: রফিকুল ইসলামের সুপারিশে ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ৩১মে ঐ ওয়ারেশ কায়েমপত্র প্রদান করেন। যার স্মারক নং-ওয়া/ক/৩৩৬/২০২৫। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন যে, তাকে মৃত দেখিয়ে ঐ ওয়ারেশ কায়েমপত্র নিয়ে বসত-ভিটাসহ সমূদয় জমি অন্যত্র বিক্রির জন্য খরিদ্দার ঠিক করা হয়েছে। এরপর তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোন সদুত্তর না দিয়ে আকষ্মিক গত ২০ জুন স্থানীয় পূজা মন্ডপে উভয় পক্ষকে ডেকে এক বৈঠকে বসেন। তবে এদিন তিনিসহ এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত হলেও ছেলে সত্যজিৎ ও তার স্ত্রী শিপ্রা হালদার একমাত্র বসত ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান। এখন পর্যন্ত তারা পলাতক রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি উক্ত ওয়ারেশ কায়েমপত্র বাতিলসহ ঘটনায় জড়িত নিজ ছেলেসহ তার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সত্যজিৎ হালদার মুঠফোনে তার মা জীবিত স্বীকার করে বলেন ভুলে করে ওয়ারেশ সনদ নেওয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম তার ভুল হয়েছে স্বীকার করে বলেন বিষয়টি ঠিক করে দিবেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুুছ আলী মুঠফোনে বার চেষ্টা করে রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে