সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় পঁচাপানির দুর্ভোগে পড়ে সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজার সড়কের সাধারণ মানুষ। রাস্তার দুই পাশে দোকানপাট, আর মাঝখানে হাঁটুপানি; বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে হওয়া হালকা বৃষ্টির পর বাজারের ভেতর জমে থাকা ময়লা পানি যেন রীতিমতো ডোবা। বাজারে হাঁটতে হচ্ছে অতি কষ্ট করে। কেউ কেউ স্যান্ডেল হাতে নিয়ে খালি পায়ে ময়লার পানি মাড়িয়ে এগোচ্ছেন, আবার কেউ পেছনে ফিরে যাচ্ছেন কষ্ট করে আসা পথটাই।
বাজারে আসা ক্রেতা আহাদ আলী বলেন, “প্রতিবারই বর্ষায় এই অবস্থা হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। দুর্গন্ধে দাঁড়ানো যায় না।”
দোকানি জেহের আলী ও মনিরুজ্জামান মনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃষ্টি মানেই দোকান বন্ধ করে বসে থাকা। বিক্রি তো হচ্ছেই না, উল্টো মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। অথচ বাজারটি সাতক্ষীরার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক!”
সাতক্ষীরা পৌরসভার আওতাধীন এই সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অকার্যকর। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে পারে না, বরং সড়কে ছড়িয়ে পড়ে পঁচাপানির ঢেউ।
বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি সূত্র জানায়, “বাজারে অন্তত দু’টি বড় নালা অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। আমরা বহুবার পৌরসভাকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” সাতক্ষীরা পৌরসভার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বাজার এলাকায় ড্রেনেজ সংস্কারের প্রকল্প আছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ শহরের ইটাগাছা এলাকার জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। স্থানীয়রা অপরিকল্পিত মাছের ঘেরকে জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছের ঘের মালিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি ঘের মালিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত ও টেকসই সমাধান দরকার। নইলে সামান্য বৃষ্টিতেই পঁচা পানির ভোগান্তি তাঁদের নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে।
একদিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র বড়বাজার, অন্যদিকে অবহেলা আর অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত নাকাল সাধারণ মানুষ। এই সড়কে জলাবদ্ধতার সমস্যা এখনই সমাধান না হলে তা জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠবে-এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।