রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত গড়ার দাবিতে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৭ জুলাই, ২০২৫, ০৩:১৩ পিএম
রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত গড়ার দাবিতে ছাত্রশিবিরের স্মারকলিপি
রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাস ফ্যাসিবাদমুক্ত গড়ার লক্ষ্যে এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য দাবি পূরণে সাত দফা দাবিতে অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী কলেজ শাখা। সোমবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুমের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. যহুর আলী, শাখা সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক হাফেজ আসমাউল হকসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে ছাত্রশিবির সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো: ১৬ জুলাই ২০২৪ সালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্ত কমিটি গঠন এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনা। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হোস্টেলে ছাত্র নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা। ফ্যাসিবাদের দোসর ও পলাতকদের নামে ক্যাম্পাসে নামকরণ করা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই বিপ্লবের শহীদ সাকিব আনজুম’-এর নামে নামকরণ। রাজশাহী কলেজের জাদুঘর পুনরায় চালু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে ধারণ করে একটি সংগ্রহশালা ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা। ফ্যাসিবাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। পূর্ববর্তী শাসনামলে সংঘটিত দুর্নীতির তথ্য শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ। ‘৩৬শে জুলাই’ নামে একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা। শাখা সভাপতি মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, “বিগত জুলাইয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও কলেজ প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং যাঁরা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা সবসময় ছাত্রস্বার্থে কাজ করি। সেই লক্ষ্যে আবারও স্মারকলিপি দিয়েছি।” অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. যহুর আলী বলেন, “স্মারকলিপিটি হাতে পেয়েছি। শিক্ষক পরিষদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, সেসব অনুযায়ী কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ১৬ জুলাইয়ের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক অভিযুক্ত গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে, যাদের পাওয়া যাচ্ছে—তাদের ছাত্ররাই পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে।” উল্লেখ্য, গত এক বছরে একাধিকবার স্মারকলিপি প্রদান করলেও জুলাইয়ের হামলা ও হোস্টেলে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনার বিচার এখনও আলোর মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির।