বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌণ হয়রানি, উত্যক্ত ও প্রাইভেট পড়তে চাঁপ প্রয়োগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে অভিযুক্ত শিক্ষক মওদুদকে ছুটিতে পাঠিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
বুধবার দুপুরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষক মওদুদের প্রধান লক্ষ্য তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়া। তার কথায় রাজি না হলে ইনকোর্স ও মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার হুমকি দেয়া। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষক মওদুদ ছাত্রীদের গভীর রাতে ফোন দেন এবং তাঁদের রাতে ফোন করতে বলেন। এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ১৯ জুলাই অর্ধশত শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শিক্ষক এম মওদুদ আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর এক ব্যক্তি ফোন রিসিফ করে বলেন, আমি তাঁর স্টাফ। স্যার ব্যস্ত থাকায় এখন ফোনে কথা বলতে পারবেন না। বলেই ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে তা বন্ধ করে রাখেন।
তদন্তের বিষয়ে কমিটির সদস্য ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন বলেন, গত ২২ জুলাই আমি এ সংক্রান্ত চিঠি হাতে পেয়েছি। তবে এখনো তদন্ত শুরু করিনি। তদন্ত কমিটির প্রধান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মামুন-উর রশিদ খান বলেন, তদন্ত কমিটির চার সদস্য সমন্ময় করে তারা কাজ শুরু করবেন। তদন্তে যা উঠে আসবে সেই মোতাবেক রির্পোট পেশ করা হবে।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সঠিক তদন্তের স্বার্থে ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।