দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬নং রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে টিএসপি বাংলাদেশী, আমদানী কারক মরক্ক ও এমওপি সার বিতরনের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ইউনিয়নের কৃষকেরা। বিসিআইসি রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মুটুনী হাটে এমএস ট্রেডার্স প্রোঃ সোহরাফ আলী নামে ডিলারসীপ ছিল। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী দেখা শোনা দায়িত্বদেন তার ভাজতী জামাতা মোঃ শামীমকে। অন্যদিকে কাহারোল বাজারে অবস্থিত তোহিদ এন্টার প্রাইজ এর অর্ধেক ডিলারসীপের সার বিতরণের জন্য শামীমকে দায়িত্ব দেন কৃষি বিভাগ। ডিলারসীপের মালামাল উত্তোলন করে বিক্রি করতে থাকেন শামীম। দশ মাইলে তার বাড়ী হওয়ায় মুটুনী হাটে এসে সময় মত দোকান খোলা না থাকার কারনে এলাকার কৃষকেরা চাহিদা মতো সার পান না। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় এমএস ট্রেডার্স এর দোকান খোলেন শামীমের দুই কর্মচারী। এদিকে সার না পেয়ে কৃষকেরা উপজেলার বিভিন্ন দোকান থেকে অতিরিক্ত দাম দিয়ে সার ক্রয় করেন। গত জুলাই মাসের বরাদ্দের ৩শত ৬৬ বস্তা বাংলা দেশী টিএসপি সার ও আমদানী কারক টিএসপি ২শত ৮০ বস্তা সার উত্তোলন করে মুটুনী হাটে না এনে দশমাইলে তার নিজেস্ব গোডাউনে রাখেন। পরবর্তী ১৩-০৭-২০২৫ ইং তারিখে দশমাইল থেকে মোট ৮০ বস্তা টিএসপি সার মুটুনী হাটে গোডাউনে আনেন। এদিকে সমূদয় সার মুটুনী হাটে জমা হয়েছে মর্মে ছবি তুলে কৃষি কর্মকর্তাকে রিপোট দেন কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল হোসেন। ১৬-০৭-২০২৫ইং তারিখে ৬০ থেকে ৭০ বস্তা বাংলাদেশী টিএসপি সার মুটুনী হাটের গোডাউনে রাখেন। ৩দিন বন্ধ থাকার পর সার বিতরণ শুরু করেন সার ডিলার। কৃষকেরা লাইনে দাড়িয়ে সার না পেয়ে হতাশা হয়ে বাড়ী ফিরে যান খালি হাতে। নয়বাদ গ্রামের কৃষক সুবাশ জানান, মুটুনী হাটের বিসিআইসির সার ডিলার অনেক সময় বাইরের দোকানদারদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে। একই গ্রামের কৃষক সবুজ বলেন, এত সার থাকার পরও কৃষকেরা সার পায়না। সরকারি রেট প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১৩৫০ টাকা কিন্তু অন্য দোকানে কিনতে গেলে ২১০০-২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সার ডিলার কৃষকদের সার না দিয়ে বাইরে কালবাজারে অতিরিক্ত দামে টিএসপি ও এমওপি সার বিক্রি করছে। রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর ব্লকের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল এর সার্বিক সহযোগীতায় এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সার ব্যবসায়ি। এলাকার কৃষকদের দাবি অবিলম্মে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল অন্যত্রে বদলী করার জন্য উর্ধোতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এব্যাপারে কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসান অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ এর সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।