বরিশালের বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মোসা. আমেনা বেগমের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও, তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, কর্তৃত্ববাদী মনোভাব, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও, সেই অভিযোগে সুষ্ঠু তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে একাধিক মহল। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি তদন্ত কমিটিকে তদবির ও চাপের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহাল রাখতে একটি মহল জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এছাড়াও উপজেলার বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বাবুগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বদলি হয়ে আসার স্বপ্ন দেখে প্রধান শিক্ষক আমেনার এসব অনৈতিক কাজের সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তারা স্থানীয় একটি রাজনৈতিক মহলকে ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকের এখান থেকে অপসারণ ঠেকানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, "যেখানে পুরো শিক্ষক সমাজ তার বিরুদ্ধে, সেখানে তদন্ত সঠিকভাবে না হলে বিচার পাওয়া যাবে না।"
একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীদের দাবি, যদি তদন্ত কমিটির সদস্য পদে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা থাকেন, তাহলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে শঙ্কা থেকেই যায়। কারণ, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক মোসা. আমেনা বেগমের সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের কিছু কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠতা ও সুসম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষায়, “যে কর্মকর্তা নিয়মিত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন বা পূর্বে বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছেন, তিনি তদন্ত কমিটির দায়িত্বে থাকলে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।”
তারা আরও বলেন, “আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, যেখানে কোনো স্বার্থন্বেষী মহল প্রভাব ফেলতে পারবে না। সে জন্য তদন্ত কমিটিতে শিক্ষা বিভাগের বাইরের সদস্য রাখা উচিত।”এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুজ জাহান অনু জানান, “অভিযোগ সত্য হওয়া সত্ত্বেও কিছু মহল বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এ ঘটনায় আমরা হতাশ ও শঙ্কিত। তিনি আরো বলেন “একটি শিক্ষকপ্রধান প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সম্মিলিত বিরোধিতার পরও যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে দৃষ্টান্তহীন ও হতাশাজনক।”
এদিকে স্থানীয় অভিভাবক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটির ওপর কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল সহকারি শিক্ষক কর্মচারীরা।
তদন্ত কমিটির প্রধান বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রউফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সঠিক দিক বিবেচনা করে তদন্তে অগ্রসর হচ্ছি। আশা করছি কোন প্রভাবশালীদের চাপে আমরা প্রভাবিত হবো না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তদন্ত কর্মকর্তা জানান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আচরণগত কিছু ত্রুটি প্রমাণিত হয়েছে সেই দিকটি বিবেচনা করেই তারা তদন্তে অগ্রসর হচ্ছেন। তার মতে একটি প্রতিষ্ঠানের যেখানে সকল শিক্ষক কর্মচারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন সেখানে উক্ত প্রতিষ্ঠানে তার না থাকাই সম্মানজনক।
এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফারুক আহমেদ জানান, তদন্ত সঠিক প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে, এখানে প্রভাবিত আর কোন সুযোগ নেই। যদি কোন প্রভাবশালীরা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে বা কোন রকম চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করে তাদের তথ্য আমাকে সরাসরি জানিয়ে দিবেন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
বাবুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকের সাথে তার কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই, এবং তিনি এই তদন্ত কমিটির সদস্য মাত্র ফলে তদন্তে কোন প্রভাবিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায় প্রভাবশালী দিয়ে তদবির করাচ্ছেন।