বাঘায় বন্যায় পানির মধ্যে বেধে রাখা গরু

এফএনএস (আমানুল হক আমান; বাঘা, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ০২:১০ পিএম
বাঘায় বন্যায় পানির মধ্যে বেধে রাখা গরু

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার বন্যায় পানির মধ্যে গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে গরু। শনিবার (১৬ আগষ্ট) পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী চরে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। এতে চরের মানুষ রয়েছে মহাবেকায়দায়।

জানা গেছে, বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে ১৫টি চর রয়েছে। এসব চরের বেশির ভাগ মানুষ ভূমিহীন অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপকে বরণ করে বসবাস করছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শুকনো মৌসুমে কৃষি কাজ আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক মন্থর। এসব চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। কোনো চরে জোয়ারের পানির প্ল্ল্লাবন থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। এ সব চরে ফসল উৎপাদনের বিষয়টি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে। তাই তারা সম্পদের মালিকানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হয় অনেক সময়। 

পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চরে বসবাস করি। এক বুক পানির মধ্যে যে ব্যক্তির কথা বলছেন, তার চেয়েও ভয়াভয়াতার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। তবে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকের মধ্যে আছি।

চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে পদ্মার ভাঙনে প্রায় সহস্রাধিক বাড়ি, শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, হাজার হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে হাজারো পরিবার। স্বাভাবিকভাবে মানুষ আতংকিত হচ্ছে। অনেকেই গরু ছাগল নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে