রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার ভাঙনে খোলা আকাশের নিচে ৬টি পরিবার বসবাস করছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) রাত ১০টার পর থেকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী পাড়ের এই পরিবারগুলো বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। শনিবার (৩০ আগষ্ট) বেলা ১২টায় কালিদাসখালী চরে গিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আকর্ষিক প্রায় ১০০ মিটার এলাকার আম, মেহগনি গাছসহ বাড়িঘর ভাঙনে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এ ঘটনার পর থেকে তারা আশ্রয় হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। হুমকিতে রয়েছে আরো ২০-২৫টি বাড়ি ও চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়। বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন কালিদাসখালী চরের আলী হোসেন, আলী ফকির, জয়নাল হোসেন, হাসিনুর রহমান, মোবারক হোসেন ও উজির উদ্দিন। এ বিষয়ে আলী ফকির বলেন, বাড়িঘর ভেঙ্গে পদ্মার ধারে রেখেছি। কোন জায়গা পাচ্ছিনা। সব জমি পদ্মা গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখন বাড়ি করার জায়গা নেই। নিরুপায হয়ে পড়েছি। এ কথাগুলো বলতে বলতে দুই চোখের কোনা দিয়ে পানি গড়ে পড়ছে আলী ফকিরের। কয়েক দিনের ভাঙনে বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে গেছে আরোও অর্ধশতাধিক পরিবার। শত শত বিঘা ফসলি জমি ও আম বাগান, পেয়ারা বাগান, বরই বাগান পদ্মায় চলে গেছে। এ বিষয়ে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ভূমিহীনদের জন্য বাড়ির ব্যবস্থা করলে হয়তো নদীভাঙা মানুষগুলো সেই বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতে পারত। নদী ভাঙতে ভাঙতে নিস্ব হয়ে গেছে। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। কোনো উপায় না পেয়ে অনেকেই অন্যের জমির উপর চালা করে বসবাস করছে। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিদাসখালী চরের সাবেক মেম্বার শহিদুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে। অসহায়দের পাশে সব সময় থাকার চেষ্টা করছি। এ সময় সরকারিভাবে সহায়তা প্রয়োজন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবলু দেওয়ান বলেন, নদীভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মা নদী ভাঙনের বিষয়ে অবগত আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।