তানোরে নকল ও ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব বাজার , ঠকছে কৃষক

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০১:১৩ এএম
তানোরে নকল ও ভেজাল কীটনাশকে সয়লাব বাজার , ঠকছে কৃষক
রাজশাহীর তানোরে বর্তমানে চলছে আমনের ভরা মৌসুম। তাই কৃষক ও চাষিরা ক্ষেতের ফসলে রোগ-বালাই দমনে নানা পদ্ধতির ব্যবহার করছেন। এরমধ্যে অন্যতম কীটনাশক। আর এসব কীটনাশক ৯০ ভাগ গ্রামের কৃষক বাকিতে কেনে থাকেন। যার কারণে দোকানীরা তাদের ইচ্ছা মতো কৃষকদের অনুমোদনহীন বা ভেজাল কীটনাশক দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এজন্য কৃষকদের ফসলের মোট খরচের অর্ধেকটাই যাই কীটনাশক প্রয়োগে। বর্তমানে বাজারে বেশির ভাগ কীটনাশক প্রয়োগ করে পোঁকা দমন হচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ। কীটনাশক উৎপাদনকারী বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানী নকল ব্র্যান্ডের ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করছে অবাধে। এতে শুধু যে কৃষক ঠকছে ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে তা নয়, সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল রাজস্ব থেকে। মূলত বাজারে তুলনামূলকভাবে দাম কিছুটা কম ও মোড়ক দেখে আসল না নকল চেনতে না পারাই কীটনাশক ক্রয় করে থাকেন কৃষকেরা। যার ফলে রাজশাহী তানোর উপজেলার পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠা দোকানে এখন ভেজাল কীটনাশকের ব্যবস্যা রমরমা। আর এসব ভেজাল কীটনাশকের একাধিক কারখানা ও সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে জেলার মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ও নওগাঁর জেলার সাবাইহাটে। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সব চেয়ে বেশি নকল ও ভেজাল কীটনাশক সিনজেন্টা এমিস্টর টপ। এ কীটনাশক ধানের পঁচন রোগ সারাতে বেশ কার্যকারী। তাই কৃষকদের চাহিদা ও বেশি। আর এ সুুযোগে প্রায় কীটনাশক ডিলার সিনজেন্টা কোম্পানীর মোড়কে ভেজাল এমিস্টরটপ বিক্রি করতে শুরু করেছেন। সরকারের কাছে কৃষকদের দাবি, বিশেষ করে ভেজাল ও নকল কীটনাশকের বিষয়ে যেন নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের কীটনাশকের বাজার মনিটরিং করা হয়। তবে, মাঠ পর্যায়ের একাধিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বীকার করছেন, কোম্পানীর কর্তৃপক্ষ ছাড়াই যততত্র কীটনাশক বিক্রি করছেন অনেক অসাধু ডিলার। আর বেশির ভাগ কৃষক বাকিতে কীটনাশক ক্রয় করে থাকেন। এতে দোকানীরা তাদের ইচ্ছা মত অনুমোদনহীন কোম্পানীর কীটনাশক বা ভেজাল কীটনাশক মেমু ছাড়া কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। এছাড়াও কীটনাশক বোতলের নামীদামি ব্যান্ডের মোড়ক দেখে চেনার উপায় থাকে না এগুলো নকল না আসল। তবে, কৃষকেরা এসব কীটনাশক ব্যবহার করে কোন কাজে আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। আমরা বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জানায়ছি। ভেজাল কীটনাশক বিক্রি করেন এমন কয়েকজন দোকানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মোহনপুর উপজেলার কেশরহাটে ভেজাল কারখানায় প্রতিনিয়ত সিনজেন্টা ও অটোসহ দেশের নামিদামি কীটনাশক কোম্পানী ব্যান্ডের মোড়কের বোতলে ভরা এসব ভেজার কীটনাশক দেদারসে বাজারে বিক্রি হচ্ছে অর্ধেক দামে। এখন থেকে জেলায় বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে ভেজাল ও নকল কীটনাশক। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো উপজেলায় নিবন্ধনকৃত কীটনাশক দোকান রয়েছে ৬০০ মতো। শনিবার মুন্ডুমালায় কীটনাশক দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সাতটি দোকানের মধ্যে মেসার্স জামান ট্রেডার্স, মেসার্স শিবলী ট্রেডার্স ও মেসার্স মাসুম ট্রেডার্সে সিনজেন্টা কোম্পানীর ভেজাল ও নকল ইমিস্টর টপ বিক্রি অনেকটা প্রকাশে। এ চারটি দোকানের সিনজেন্টা কোম্পানীর এজেন্ট বা বিক্রয়পত্র নেই। এছাড়াও তানোর সদর, মেডিক্যাল মোড়, চাঁদপুর মোড়, কাশিম বাজার ও কালিগঞ্জহাট বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে ভেজাল এমিস্টরটপ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এনিয়ে উপজেলার বাধাইড় গ্রামের কৃষক শামিম হোসেন বলেন, তার আমন ক্ষেতে পঁচন রোগ দেখা দিয়েছে। মুন্ডুুমালা বাজারে মেসার্স জামান ট্রেডার্সের মালিক বাবুর কাছে গিয়ে ক্ষেতে পঁচনের কথা জানালে তিনি এমিস্টার টপ নামের একটি বড় কীটনাশক বোতল দেয়। বোতলের গায়ে ১৯৫০ টাকা মুল্য থাকলেও দোকানি তাকে ১৫০০ টাকায় দেন। কিন্ত এক সপ্তার বেশি সময় পার হলেও পঁচন কোন প্রকার দমন করতে পারিনি। পরে বুঝতে পারি এমিস্টরটপটি নকল মোড়েকে ছিল। মুন্ডুমালা পৌর এলাকার প্রকাশনগর গ্রামের কৃষক মিজান বলেন, তিনি মুন্ডুমালা বাজারে মেসার্স শিবলী ট্রের্ডাসে বাঁকিতে কীটনাশক কেনেন। তার প্রায় ৭ বিঘা আমন ধানে পঁচন রোগ ধরেছে। এমন কথা কীটনাশক দোকানি শিবলীকে জানালে তাকে একটি এমিস্টারটপের বড় বোতল ধরিয়ে দেন। এই দুইটি কৃষকের অভিযোগের সত্যতা জানতে মুণ্ডুমালা বাজারে মেসার্স জামান ট্রেডার্স শিবলী ট্রের্ডাসে গিয়ে দেখা যায়, তারা কেউ সিনজেন্টা কোম্পানীর ডিলার নয়। তবুও কেন এ কোম্পানীর কীটনাশক বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি কেউ। এনিয়ে তানোর উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও রিসিভ হয়নি। পরে এব্যাপারে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগেরর উপ-পরিচালক উম্মে সালমা বলেন, বাজারে ভেজাল ও নকল কীটনাশক পাওয়া নিয়ে আমরা অভিযান চালাচ্ছি। ইতি মধ্যে কিছু দোকানের ভেজাল কীটনাশক পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলবে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের কীটনাশক কেনার সময় অবশ্যই কীটনাশক ডিলালের কাছে মেমু সংগ্রহ করতে হবে। কারণ কীটনাশক ব্যবহার করে কোন কাজ হচ্ছে না পরে তথ্য প্রমান পাওয়া যাইনা। আর মেমু নেওয়ার পরে যদি কাজ না হয় সেক্ষেত্রে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারকে দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারবো। এক্ষেত্রে কৃষকদের সহযোগিতা করতে হবে। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে