রাজনীতিতে অনৈক্যের সুরে হতাশ ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম
রাজনীতিতে অনৈক্যের সুরে হতাশ ফখরুল

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঐক্যের বদলে অনৈক্যের সুর দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এত বড় এক অভ্যুত্থানের পর দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আমরা দেখছি রাজনীতিবিদরা ঐক্য হারিয়ে ফেলছেন। চারদিকে অনৈক্যের সুর, এতে আমরা হতাশ হচ্ছি।”

সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন মির্জা ফখরুল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ তোমাদের ডাকছে। পৃথিবী এখন প্রতিযোগিতার। তুমি যদি টিকতে না পারো, তুমি নিক্ষিপ্ত হবে। তাই নিজেকে তৈরি করতে হবে প্রতিযোগিতার জন্য।” তিনি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা উদ্ধৃত করে তরুণদের দায়িত্ববোধের আহ্বান জানান।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের। এর জন্য দায়ী রাজনীতিবিদরাই, দায়ী আমলাতন্ত্র। বিএ বা এমএ পাস করে শিক্ষার্থীরা চাকরি পাচ্ছে না, কারণ আমরা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে পারিনি। কিন্তু কেউ যদি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা করত, তাহলে তার চাকরি কেউ আটকাতে পারত না। এখানেই রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতা।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্যাররা রাস্তায় আন্দোলন করছেন বেতনের জন্য। অথচ আমরা যদি অতি মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা দিতাম এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতাম, তাহলে সমাজে কর্মসংস্থানের সংকট থাকত না।” কারিগরি শিক্ষার প্রসারই দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য জরুরি বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব।

বর্তমান সময়কে ‘ক্রান্তিকাল’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন অস্থিরতা চলছে, প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য এসেছে। নতুন প্রজন্ম ‘জেন জি’ প্রযুক্তির যুগে বাস করছে, তারা অনেক কিছু জানে, তবে এই জ্ঞান যেন মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত হয়।” তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের জন্য আমাদের প্রার্থনা, আল্লাহ যেন তোমাদের সঠিকভাবে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন, সেটাই সবচেয়ে বড় কাজ।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা। পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোবারক হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, শিক্ষাবিদ এম এ সাজ্জাদ, কবীর হোসেনসহ অনেকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে