মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৬টি লাঠিয়াল দল এতে অংশগ্রহণ করে। খেলা দেখতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ছুটে আসে হাজারো দর্শনার্থী। মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
বাংলার গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক লাঠি খেলা। এক সময় গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার থেকে শুরু করে বিশেষ উৎসব ও পালাগানে লাঠি খেলা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আধুনিক বিনোদনের ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে এই অসাধারণ লোকজ খেলা। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই মেহেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে লাঠি খেলা প্রতিযোগিতা। সোমবার (৩ নভেম্বর) গাংনী বাজারপাড়া উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে গাংনী বলফিল্ডে আয়োজন করা হয় এই ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। সকাল থেকে প্রতিযোগিতা মাঠে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। জেলার বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী-সবাই মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন লাঠিয়ালদের নানা কৌশল, হঠাৎ আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ, প্রতিহত করার ট্যাকনিক্যাল দক্ষতা আর চমৎকার শো-ডাউন প্রদর্শনী।
খেলার শুরুতেই মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ফিরে আসে পুরনো দিনের স্মৃতি, গ্রামীণ জীবনের রোমাঞ্চ আর লোকজ ক্রীড়ার ঐতিহ্যের স্পর্শ। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা ৬টি লাঠিয়াল দল অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়। প্রতিটি দলের লাঠিয়ালরা নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের কুশল প্রদর্শনীতে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। খেলা শেষে বিজয়ী দলকে বিশেষ পুরস্কারও প্রদান করা হয়।
খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, লাঠি খেলা শুধু খেলা নয়, এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের শক্তিশালী একটি অংশ। একে বাঁচিয়ে রাখা ভবিষ্যৎ সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য খুবই জরুরি।
দর্শকরা জানিয়েছেন, বহু দিন পরে এমন খেলা সামনে থেকে উপভোগ করার সুযোগ মিলল। তাঁরা চান এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি হোক। নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রামীণ সাংস্কৃতিক রূপটি পৌঁছে দিতে হলে লাঠি খেলার মতো লোকজ খেলাগুলো নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন।
মকবুল হোসেন মেঘলা, উপদেষ্টা,গাংনী বাজারপাড়া উন্নয়ন সংস্থা, মেহেরপুর বলেছেন, শুধু হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা নয়, হারিয়ে যাওয়া সকল খেলা আগামীতে চালু করা হবে বলে জানান আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা