সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৯৫ জন রোগী, যা চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত একদিনে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫৫ জন, চট্টগ্রামে ১৩২ জন, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে ২৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ২২০ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১১৫ জন, খুলনায় ১১৪ জন, ময়মনসিংহে ৫৯ জন, রাজশাহীতে ১১৩ জন এবং সিলেটে ৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মৃত্যুবরণ করা ছয়জনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়, দুজন দক্ষিণ সিটিতে এবং দুজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে।
গত একদিনে সারা দেশে এক হাজার ১০৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৯৩ জন। একই সময়ে সব মিলিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৮ হাজার ৫৪৩ জন রোগী।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২০২৪ সালে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। তারও আগের বছর ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীসহ সারাদেশে অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি জমে থাকা এলাকা এবং পর্যাপ্ত মশা নিধন কার্যক্রম না থাকায় সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।