দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাংলাদেশকে জড়ানো ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:২৩ পিএম
দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বাংলাদেশকে জড়ানো ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ ও ‘দায়সারা সাংবাদিকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুযোগ পেলেই ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লালকেল্লার হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। “এসব খবরের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, কোনো বিবেকবান মানুষ এমন সংবাদ বিশ্বাস করবে না,” বলেন তৌহিদ হোসেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতের গণমাধ্যমের এই ধরনের মনগড়া প্রতিবেদন দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক নয়। বাংলাদেশ বরাবরই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। “আমরা বরাবরই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি, এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও করে যাচ্ছি,” তিনি যোগ করেন।

এ সময় শেখ হাসিনার বিচারের বিষয়ে জাতিসংঘের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “জাতিসংঘ এ বিষয়ে কিছু বলেনি। যদি বলে, তখন সরকার সে অনুযায়ী উত্তর দেবে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে। “চীন থেকে অস্ত্র কিনলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ব—এমন ধারণা ঠিক নয়। আমরা কারও দিকে ঝুঁকিনি, বরং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছি।”

এর আগে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর সামনে একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই অন্তত ১৩ জন নিহত হন এবং ২৪ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে মানবদেহের অংশবিশেষ।

দিল্লির পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা সাংবাদিকদের বলেন, “লালবাতিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” পুলিশ জানায়, হুন্দাই আই২০ মডেলের ওই গাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গাড়িটি ২০১৩ সালে কেনা হলেও পরে কয়েক দফা বিক্রি হয়। সর্বশেষ ক্রেতাকেও পুলিশ আটক করেছে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানিয়েছে ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন। সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে হাইকমিশন বলেছে, “এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ ভারতের পাশে আছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল।”

এদিকে বিস্ফোরণের পর দিল্লি পুলিশ পুরো শহরে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত লালকেল্লা দর্শনার্থীদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানানো হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে