কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী আইন বাংলাদেশে থাকবে না: ইমাম সম্মেলনে সালাহউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ০৭:০৯ পিএম
কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী আইন বাংলাদেশে থাকবে না: ইমাম সম্মেলনে সালাহউদ্দিন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় ইমাম খতিব সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কোরআন ও সুন্নাহর বিরোধী কোনো আইন বাংলাদেশে বহাল থাকবে না। আগে কোনো এমন আইন করা হয়ে থাকলে সেটিও বাতিল করা হবে বলে তিনি জানান। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সম্মেলনের শুরু থেকেই বক্তারা দেশের ধর্মীয় পরিবেশ, আইনকানুন ও সমাজব্যবস্থায় শরিয়াহর মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক নবযাত্রা শুরু হয়েছে এবং এই পরিবেশ বজায় রাখতে ইমাম ও খতিবদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা জরুরি। তিনি মনে করিয়ে দেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়। বিএনপি আবার সেটি পুনর্বহালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্মেলনে ইমাম ও খতিবদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া আলেমদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি বন্ধ করা, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও পানির বিল মওকুফ, দাওরায়ে হাদিস সনদধারীদের সরকারি মসজিদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ, মসজিদ কমিটিতে ইমামদের ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া। এসব দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা যায় না। বিগত সময়ে ইসলামবিদ্বেষী সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে হয়রানি হয়েছে। সেই বাংলাদেশ আর নেই।”

তিনি আরও বলেন, মসজিদে যেন দুনিয়ার কোনো রাজনৈতিক বা অপ্রাসঙ্গিক কার্যক্রম ঢুকে না পড়ে, সে বিষয়ে ইমাম এবং খতিবদের দায়িত্বশীল থাকতে হবে। “ইমামদের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখাই আমাদের লক্ষ্য”, মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

একই সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “নামাজের ইমাম যখন সত্যিকারের ইমাম হবেন, তখনই জাতির মুক্তি আসবে।” তাঁর ভাষায়, দেশে আইন চলবে কোরআনের নীতিতে। মসজিদ কমিটি পরিচালনার ক্ষেত্রেও ইমাম ও খতিবদের পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি, হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিবসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতারা। মাওলানা আজহারুল ইসলাম সম্মেলনের সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, ইসলামী মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে সামাজিক স্থিতি ফিরবে না। একই সঙ্গে ইমাম ও খতিবদের সামাজিক নেতৃত্বের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তাঁরা।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে