ডুমুরিয়ার ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতের নথি গায়েব!

এফএনএস (আঃ লতিফ মোড়ল; ডুমুরিয়া, খুলনা) : | প্রকাশ: ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
ডুমুরিয়ার ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতের নথি গায়েব!

পারিবারি বিরোধ মিমাংসার জন্যে জনৈক নারী খুলনার  ডুমুরিযা উপজেলার  ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জহুরুল হক-এর  পারিবারিক আদালতে আবেদন। 

 সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রাম আদালতের তিনদফা শুনানী হয়। পরে গ্রাম আদালতের বিচারক চেয়ারম্যান বি এম জহুরুল হক তিন কার্য দিবস ওই মামলার শুনানী শেষে একটি রায় দেন। অথচ সেই রায়ের তথ্য যাচাই করতে তার কাছে গেলে কোন নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ধামালিয়া ইউনিয়নের জনৈক এক নারী ( সামাজিকতার জন্য নাম প্রকাশ করা হল না) স্বামী খার্নিয়া ইউনিয়নের পাঁচপোতা গ্রামের পোস্ট মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক মোড়লের ছেলে তানভীর হোসেনের সাথে বিরোধ তৈরি হওয়ায় নিজ পিতার বাড়ি টোলনাতে চলে আসেন। তখন বিষয়য়টি মিমাংসার জন্য ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পারিবারিক বিরোধ ২৫/২০২৪ নম্বর মামলা রেকর্ড করেন। প্রথমদিনে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর শুনানী শেষে পরবর্তিতে ২৩ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে পরবর্তি শুনানীর দিন ধার্য্য করেন।  ওই তারিখে আবেদনকারী ওই নারী গ্রাম আদালতে উপস্থিত হলেও বিবাদীদের একজন হাজির হয়ে সময় প্রার্থনা করেন। তাদের সময়ের আবেদন গ্রহণ করে মামলার কার্যক্রম ২ সপ্তাহের জন্য মুলতবী করেন। অথচ পরদিন ২৪ নভেম্বর আবেদনকারিকে না জানিয়ে একটি আদেশনামা দেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদী ১৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বাদীকে তালাক দিয়েছেন। যার কপি মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হল। 

একই সাথে আবদনকারীকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হল। নিয়ম অনুযায়ি কোন মামলার বিচার কাজ চলমান থাকা অবস্থায় পরবর্তি ধার্য্য তারিখের পূর্বে আদেশনামা দেয়ার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। তাছাড়া একটি তালাক নামার নোটিশ দিলেও ইসলামী শরীয়া মোতাবেক স্ত্রীকে দেনমোহরের টাকা, খোরপোষ পরিশোধ করার বিধান থাকলেও সেটি পরিশোধ করেছে কিনা সেটিও তিনি যাচাই করেননি।

অভিযোগ উঠেছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিবাদীদের বেআইনী কাজের সহযোগিতা করেছেন চেয়ারম্যান বি এম জহুরুল হক। না হলে যার বিরুদ্ধে বিচার কাজ চলমান তিনি কাউকে তালাকের নোটিশ দিলেন আর চেয়ারম্যান একটি রিপোর্ট দিয়ে দেবেন এটা কখনই আইনসিদ্ধ হতে পারে না বলে একাধিক আইনজীবী মত দিয়েছেন।

এদিকে ধামালিয়া ইউনিযন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক  বিভিন্ন নোটিশের খাতায় লিপিবদ্ধ মামলার রায় খোঁজ করে দেবেন বলে জানালেও গত ১ মাসে বার বার সময় নিয়েও দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পরবর্তিতে চেয়ারম্যান বি এম জহুরুল হক বলেন, এটি তৎকালিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ( সচিব) কামরুল ইসলাম জানেন।

 এ বিষযে তৎকালিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে  সেলফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সকল নথিপত্র চেয়ারম্যান নিজেই সংরক্ষন করেন। তাছাড়া আমি বদলি হয়ে কয়রায় আসার পূর্বে সব কিছু বুঝিয়ে দিযে এসেছি।