সরাইলে ৪ মাটি খেকোর কারাদন্ড, পুঁড়িয়ে দিয়েছেন আস্তানা

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম
সরাইলে ৪ মাটি খেকোর কারাদন্ড, পুঁড়িয়ে দিয়েছেন আস্তানা

দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে মাটি বিক্রির দায়ে ৪ মাটি খেকোকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত। শনিবার দুপুরে উপজেলার জয়ধরকান্দি ও তেলিকান্দি এলাকায় মাটি কাটার সময় তাদেরকে ধাওয়া করে আটক করেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আবুবকর সরকার। পুঁড়িয়ে দিয়েছেন হাওরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত তাদের আস্তানা। জব্দ করেছেন মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত বেকুও। ফসলি জমি রক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ঝুঁকি নিয়েও এমন গুরূত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ইউএনও কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘তরী’ বাংলাদেশ, সরাইল উপজেলা শাখার আহবায়ক মোহাম্মদ মাহবুব খান। 

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়ধরকান্দি তেলিকান্দি এলাকার হটকিতলা বাগ, দোলাইদার, মাইজেরকান্দা ও চারাকান্দায় জমির টপসয়েল কেটে বিক্রির মহোৎসব করছিলেন স্থানীয় মাটি খেকো একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য নাজিম উদ্দিন, ফরিদুল আমীন, সাবেক ইউপি সদস্য মো. সালাহউদ্দিনসহ আরো কয়েকজন। একই কায়দায় গত কয়েক মাস ধরে অরূয়াইল ইউনিয়নের মেঘনার পাড় সংলগ্ন রাজাপুর দুবাজাইল গ্রামের মাঝখানে কয়েক একর ফসলি জমির টপসয়েল লুটে নিচ্ছে মাটি খেকোরা। ফলে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত নদী কৃষিজমি ও কৃষকরা। ওই সিন্ডিকেটে স্থানীয় আ’লীগ নেতা সামছু, রফিক, আব্দুল আজিজ ও মাসুদদের নাম বলেছেন কৃষকরা। বাঁধা দেওয়ায় তারা উল্টো কৃষকদের হুমকি দিয়ে বুক চিতিয়ে আবার মাটি কাটছেন। এ বিষয়ে গত ১৩ ডিসেম্বর তারিখে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘সরাইলে জমির টপসয়েল বিক্রির ধুম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলেন স্থানীয় ভুক্তভোগিরা। বিষয়টি আমলে নেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। জমির টপসয়েল ফসল ও পরিবেশ সুরক্ষায় শনিবার দুপুরে জয়ধরকান্দি তেলিকান্দি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার। অভিযানকালে দেখতে পান মাটি চক্রের সদস্যরা মাটি কাটছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে তারা। ইউএনও তাদেরকে ধাওয়া করে ৪ মাটি খেকোকে আটক করে ফেলেন। অপরাধের দায় স্বীকার করায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাটিকাটা ও বিক্রির দায়ে বালুমহাল ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের কারণে মো. লাদেন (২২) ও আক্তার হোসেনকে (৩৭) এক বছরের এবং আব্দুল রশিদ (৩৬) ও ফয়সালকে (১৯) ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন মো. আবুবকর সরকার। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর একই অপরাধে নোয়াগাঁও এলাকায় আশা ব্রিকসের বাদল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিয়েছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন বেগম। নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কাটা ও মনগড়ামত ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা দুটিই দন্ডনীয় অপরাধ। তাই তাদের বিরূদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে