রামপুরায় ২৮ হত্যা, রেদোয়ানুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:০১ পিএম
রামপুরায় ২৮ হত্যা, রেদোয়ানুলসহ চার জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চার জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

২৪ ডিসেম্বর দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই আদেশ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শুনানির শুরুতেই আসামিদের পক্ষে করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান ও সহিদুল ইসলাম। গ্রেপ্তার দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিদুল মিসবাহ। পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

মামলার চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার দুজন হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম। মঙ্গলবার সকালে তাদের ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি এখনো পলাতক। তারা হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান।

এর আগে ২১ ডিসেম্বর পলাতক ও উপস্থিত আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তারও আগে ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় সংঘটিত সহিংসতায় ২৮ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি ছুড়তে দেখা যায়। অন্য তিন আসামিও ওই হত্যাযজ্ঞে নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার দায় নির্ধারণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে