জামালপুরে রাতের অন্ধকারে কৃষি জমির মাটি লুট

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম
জামালপুরে রাতের অন্ধকারে কৃষি জমির মাটি লুট

জামালপুর সদর উপজেলার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীফপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় রাতের আঁধারে কৃষি জমির উর্বর মাটি (স্টপ সয়েল)কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি অসাধুচক্র। এতে যেমন জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যও। এছাড়া মাটি কাটার ট্রাক্টরের যাতায়াতে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট। অসাধু প্রভাবশালী চক্র নির্বিচারে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করায় হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি পণ্য ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন ফসল। এলাকাবাসীরা জানায় প্রতিদিন রাত ১১ টার পর থেকেই মাটি ভর্তি লড়ি ও ড্রাম ট্রাক,চলাচল শুরু করে। সারারাত এভাবে চলতে থাকে। গভীর রাতে মাটি ভর্তি ট্রাকের চলাচলে বিকড় শব্দে আবাল বৃদ্ধা রোগীসহ নারী পুরুষ ও শিশুদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে প্রতিনিয়ত। অপরদিকে মাটি ভর্তি ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় এলাকার মানুষ এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার মরহুম সুরুজ্জামান সূরুজ এর ছেলে আকরাম, রঘুনাথপুর এলাকার বাদল এর ছেলে ফনি ফকির, শ্রীরামপুর এলাকার মরহুম খেলা খন্দকার এর ছেলে আনোয়ার হোসেন আঞ্জু সহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতভর কৃষি জমি উপরিভাগের মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি বিক্রি করে আসছেন। ফলে কৃষি জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে।

পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমি মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু দুই ফসলি কৃষি জমির মালিদের নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মাটি কেটে নিচ্ছে ভূমি দস্যুরা।

এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে আবাদি জমির মাটি কেটে বিশাল গভীর গর্ত সৃষ্টি করা হয়েছে।

রবিউল সুলাইমান,করিম মন্ডল সহ এলাকাবাসী জানায়,প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। শুধু ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিই নয়, বরং খাস জমি বসতবাড়ি সীমানা ঘেঁষে নির্বিঘ্নে মাটি লুটে নিয়ে যাচ্ছে । এ ব্যাপারে ট্রাক চালককে রাতে চলাচলের জন্য নিষেধ করলে , চালক বলে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ট্রাকের চাকার নিচে ফেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। উল্লেখ্য ট্রাকের নেই কোন রেজি: নাম্বার প্লেট।

এ ব্যাপারে পাওয়া টিলার মালিক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মাটি কাটার জমিতে পাওয়া টিলার হালচাল করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে করে চাষ করার জন্য অনেক জমি পতিত পড়ে থাকবে। এ বিষয়ে আকরাম জানান, দিনের বেলা মাটি কাটলে নানা সমস্যা তাই রাতে কাটি যাতে কারো সমস্যা না হয়।

জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক জানান, জমির উপরিভাগের ৮-১০ ইঞ্চি মাটির মধ্যেই থাকে ফসল উৎপাদনের মূল পুষ্টিগুণ। এই স্তরটি কেটে ফেললে জমিটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুর্বর হয়ে পড়ে, যা ভবিষ্যতে বোরো বা আমন চাষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। টপ সয়েল কেটে নেওয়া জমিতে এর দ্বিগুণ সার দিতে হয়। ফলন ও স্বাভাবিক চেয়ে কম হবে। এ ভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনীন আখতার জানান, বিষয়টি শুনেছি। খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে