বিএনপি’র জোটের অন্যতম শরিকদল জমিয়তকে ছেড়ে দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ)। গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এই আসনে জমিয়তের মাওলানা জুনাঈদ আল হাবিবের নামও ঘোষণা করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরূল ইসলাম আলমগীর। মনোনয়নও করে ফেলেছেন জুনাঈদ আল হাবিবের প্রতিনিধিরা। মাত্র একদিন পরই জোটের প্রার্থী রেখেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী একই আসনে নির্বাচন করতে গতকাল বুধবার মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্ট্রার রূমিন ফারহানার প্রতিনিধি আলী হোসেন। মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. আহসান উদ্দিন খান শিপনও। ক্রয় করবেন বিএনপি নেতা এস.এন তরূন দে ও।
দলীয় ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভাষা সৈনিক প্রয়াত অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিষ্ট্রার রূমিন ফারহানা। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি’র রাজনীতি করে আসছেন। অনেক নির্যাতন নিপিড়ন জুলুম সহ্য করে গত ১৬ বছর দলটির পক্ষে রাজপথে ও সংসদের লড়াই সংগ্রাম করেছেন। প্রয়াত পিতাকে যে আসনে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ১৯৭৩ সালে ফেল করিয়েছিল সেই আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে এমপি নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। সেই লক্ষ্যে তিনি এই আসনে গত প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করছেন। এই এলাকার নারী পুরূষের খুব কাছে চলে গিয়েছেন। কর্মী ভোটার সমর্থকরাও উনাকে মনে জায়গা দিয়েছেন। এ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে পিতার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই তিনি এগুচ্ছিলেন। ভরসা ছিল দল উনাকে ফিরিয়ে দিবেন না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই দফা মনোনয়ন প্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ স্থগিত রেখিছিলেন। তখনও রূমিন ফারহানা আশা করেছিলেন এই আসনে দল উনাকেই মনোনয়ন দিবেন। সর্বশেষ গত বুধবার যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামা ইসলামের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল তখন সাথে সাথেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন। যেই কথা সেই কাজ। গতকাল বুধবার উনার প্রতিনিধি আলী হোসেন মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেন। কারণ
গত কয়েকদিন আগে নির্বাচনী এলাকার এক কর্মসূচিতে রূমিন ফারহানা নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি যা বলি, তা-ই করি। এতে ভালো বা মন্দ হইলে, সেটা আমার দায়িত্ব। আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন, মার্কা যা-ই হউক, নির্বাচন করব আমি সরাইল-আশুগঞ্জ থেকেই।” রূমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রাজনীতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আলী হোসেন বলেন, রূমিন ফারহানা শুধু বিএনপি’র নয়, এই এলাকার মাটি ও মানুষের নেত্রী। তিনি কাজের মাধ্যমে সরাইল আশুগঞ্জের প্রত্যেকটি নারী পুরূষের মনে স্থান করে নিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবী হচ্ছে রূমিন ফারহানাকে এই আসনে নির্বাচন করতেই হবে। জনগণের প্রত্যাশা ও চাওয়া পূরণ করতেই তিনি মনোনয়নপত্র ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই উনার নির্দেশেই আমরা ক্রয় করেছি। শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র দফতর সম্পাদক মো. জুনায়েদ খান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের ৭ মামলার আসামী আমি। দলের নির্দেশ ও কর্মসূচি পালন করে ৬ মাস কারাবরণও করেছি। যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা রূমিন ফারহানা নির্বাচনী এলাকায় এক যুগেরও অধিক সময় ধরে কাজ করছেন। তিনি এই আসনের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। হঠাৎ করে আসা বসন্তের কোকিলকে মনোনয়ন দিয়ে উনার নেতৃকে বঞ্চিত করা জনগণ মানছেন না। আমরা মানছি না। রূমিন ফারহানার সাথে জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আছি। এই কারণে দল যদি বহিস্কার করে দেয় তাতে কোন আপত্তি নেই। বহিস্কার মেনেই আমরা উনার নির্বাচন করব। উনাকে এই আসনের এমপি নির্বাচিত করে মানুষের মনের আশা পূরণ করব। মনোনয়পত্র ক্রয় করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন পরিষদের সাবেক সক্রিয় সদস্য সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আহসান উদ্দিন খান শিপন। উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের বাসিন্দা বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের মহাসচিব ও জেলা বিএনপি’র সদস্য এস.এন তরূন দে ও মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। প্রসঙ্গত: গতকাল পর্যন্ত জমিয়তে ওলামা ইসলামের মাওলানা জুনাঈদ আল হাবিব, বিএনপি’র ব্যারিষ্ট্রার রূমিন ফারহানা, এস. এন তরূন দে, মো. আহসান উদ্দিন খান শিপন, জামায়াতে ইসলামের মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মো. জিয়াউল হক মৃধা ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নেছার আহমেদসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন।