স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো: জরিপের ফলাফল উন্নয়ন নীতিতে নতুন সতর্কবার্তা

এফএনএস | প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:২০ পিএম
স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো: জরিপের ফলাফল উন্নয়ন নীতিতে নতুন সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপ দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগজনক ঘাটতির চিত্র তুলে ধরেছে। উন্নয়ন অগ্রগতির নানা সূচকে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই ফলাফল কেবল পরিসংখ্যান নয়-এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা পরিবেশ ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সতর্কবার্তা। জরিপে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি ৫০ শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি উন্নত মানের টয়লেট থাকা সত্ত্বেও দেশে মাত্র ২৮.৬ শতাংশ স্কুল এ সুবিধা নিশ্চিত করতে পেরেছে। মানববর্জ্য নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনা করে এমন প্রতিষ্ঠানের হার স্কুলে ৩৩.৯ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ৪৫.৪ শতাংশ-যা পরিবেশ দূষণ ও রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। উন্নত পানির উৎসে প্রবেশগম্যতা তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও তা সব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণের ভেতরে নয়, ফলে মৌলিক পানি সেবার মানদণ্ড পূরণে ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য উপযোগী অবকাঠামোর স্বল্পতা। স্কুলের মাত্র ৫৫.৪ শতাংশ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ৪০.৯ শতাংশে এ ধরনের সুবিধা রয়েছে। অপরদিকে হাত ধোয়ার মৌলিক সেবার মানদণ্ড পূরণে বড় বৈষম্য লক্ষণীয়-স্কুলে ৫১.৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৫ শতাংশ। এ ঘাটতি সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় স্পষ্ট দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধাও অপ্রতুল। মাত্র ২০.৭ শতাংশ স্কুলে কিশোরীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ টয়লেট এবং ৬.৯ শতাংশ স্কুলে মৌলিক এমএইচএম সেবা থাকার বিষয়টি শিক্ষায় লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসা-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত হয়নি-মাত্র ২৫.৪ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানোর প্রবণতা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য স্পষ্ট হুমকি। জরিপে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উঠে এসেছে-প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান জলবায়ু সহনশীল ওয়াশ অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার জ্ঞান ও বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত কম, যা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই ফলাফল উন্নয়ন পরিকল্পনায় কয়েকটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে- শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। এছাড়াও প্রতিবন্ধী ও কিশোরীবান্ধব অবকাঠামো বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক তদারকি ও মাননিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং জলবায়ু সহনশীল ওয়াশ ব্যবস্থা ভবিষ্যৎ বাজেট বরাদ্দে বিশেষ গুরুত্ব পেতে হবে। অগ্রগতির ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতে নিরাপদ স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন আর অতিরিক্ত সুবিধা নয়-এটি একটি মৌলিক জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে