ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে বড় পরিবর্তন এলো। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আতিকুর রহমান। এর ফলে রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিল আংশিক নিয়ে গঠিত এই আসনে এনসিপির প্রার্থিতা আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আতিকুর রহমান নিজেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান। তিনি লেখেন, “ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনে জনাব নাহিদ ইসলামের জন্য শুভকামনা। দীর্ঘ ১০ মাস ২২ দিন পর আজ এক বড় জবাবদিহিতার জিম্মাদারি থেকে মুক্তি পেলাম।” দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সংগঠনের পক্ষে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
আতিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের সিদ্ধান্তের পর থেকে ঢাকা-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছেন। ব্যক্তি, পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে মাঠে সক্রিয় থাকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে এই সময়ে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের যে সমর্থন তৈরি হয়েছিল, তা সর্বশেষ জরিপেও উঠে এসেছে। ঢাকা-১১ আসনের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, স্বল্প সময়ে মানুষ তাকে আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং অভূতপূর্ব ভালোবাসায় আবদ্ধ করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সহযাত্রীদের ত্যাগের কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেন তিনি। রাত জেগে পোস্টার লাগানোসহ নানা কষ্ট স্বীকার করা কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীদের ভূমিকার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান।
এর আগে একই দিন বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণা দেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন আট দলীয় জোটের সঙ্গে কর্নেল অব. অলি আহমদের এলডিপি এবং নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন এনসিপি যুক্ত হয়ে এই মোর্চা গঠিত হয়। এই ঘোষণার পরপরই ঢাকা-১১ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক বক্তব্যে বলেন, “পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবং আধিপত্যবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে বৃহত্তর ঐক্য জরুরি হয়ে পড়েছে।” তিনি জানান, এনসিপি এককভাবে তিনশ আসনে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে এই সমঝোতা আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কৌশল ও ঐক্যের বার্তা হিসেবেও দেখছেন তারা।