পাহাড়ে হাজারো পরিবার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। এর মূল অন্তরায় হিসেবে দাড়িয়েছে দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব এবং মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধার অপ্রতুলতা। এসব দূর্গামাঞ্চলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা 'মানবিক সহায়তা' হিসেবে ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ করলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে সাধারণ জ্বর, ব্যথা, বা প্রসূতি সেবার জন্যও তাদের অনেক দূরে যেতে হয়, যেখানে আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের পর্যটন এলাকায় একটি স্থায়ী হাসপাতাল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এ অঞ্চলসহ আশপাশের প্রায় ২০ হাজার পাহাড়ি পরিবার। জরুরি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ঝুঁকি নিয়ে দূরপাল্লায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী জানান, সাজেকে এখনো কোনো সরকারি হাসপাতাল বা আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। সাধারণ অসুস্থতা থেকে শুরু করে প্রসূতি সেবা কিংবা দুর্ঘটনার সময় রোগীদের দীঘিনালা উপজেলা সদর বা খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থানে সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্গত হলেও পাশ্ববর্তী জেলা খাগড়াছড়ি হয়ে যাতায়াত সহজ। তবে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়, যা প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে শতভাগ।
সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, “রাতের বেলা কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় মানুষ মৃত্যু বরণ করে।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, পর্যটন এলাকা হওয়ায় সাজেকে প্রতিবছর হাজারো পর্যটক আসলেও স্থানীয়দের মৌলিক চিকিৎসাসেবার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়ে গেছে। একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, পর্যটকরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন তারা।
আরেক জনপ্রতিনিধি পরিচয় চাকমা জানান, সাজেকে একটি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবগত করা হয়েছে। তিনি দুর্গম সাজেকবাসির পক্ষে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তার। এছাড়াও তিনি তার দাবি, অন্তত একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে।
সাজেকের বিশাল জনগোষ্ঠী ও পর্যটকদের জন্য একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য, যা স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকগণ।