আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারাদেশে ৪৭টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নয় এবং জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের ৪৭টি মনোনয়নপত্র সাবমিট হয়েছে। আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভুলত্রুটি বা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছুটা বাড়িয়েই জমা দেওয়া হয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম জানান, এর আগে রোববার এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে জোটের সঙ্গে কতটি আসনে সমঝোতা হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জোটের পক্ষ থেকে এনসিপিকে সর্বোচ্চ ৩০টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সোমবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এ সময় আর বাড়ানো হবে না। ফলে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগির আলোচনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকবেন, তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নিজে প্রার্থী হবেন না।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এনসিপির সারা দেশের নেতাকর্মীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করবে এবং জোটের পক্ষ থেকে যে প্রার্থী থাকুক না কেন, আমরা সবাই মিলে তার পক্ষে কাজ করব। দলের স্বার্থে যারা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করবেন না, তাদের ত্যাগ ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করা হবে।”
দলীয় নেতারা মনে করছেন, বাড়তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কৌশল এনসিপিকে আলোচনার টেবিলে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এনসিপির নির্বাচনী কৌশলও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।