ব্রীজ উদ্বোধনের আগেই ফাঁটল, কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
| আপডেট: ১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম | প্রকাশ: ১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ব্রীজ উদ্বোধনের আগেই ফাঁটল, কাজ বন্ধ করলেন ইউএনও

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহজাদাপুরে একটি ব্রীজই ছিল ৪০ হাজার লোকের স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন ঠিকাদার। মনগড়া মত নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে যেনতেন ভাবে করছিলেন কাজ। ফলে যে কোন সময় ব্রীজটি ধ্বসে পড়ার শঙ্কাও ছিল। অজানা কারণে বরাবরই ঠিকাদারকে নীরব সমর্থন করছিলেন এস.ও সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। খোদা দাঁড়িয়ে গেছেন সাধারণ মানুষের পক্ষে। নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়ম হাতেনাতে ধরে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঠিকাদারকে। ল্যাব টেষ্ট করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলীকে।

ইউএনও’র দফতর, এলজিইডি ও স্থানীয় লোকজন সূত্র জানায়, দীর্ঘ কয়েকশত বছর কষ্ট ও অপেক্ষার পর শাহজাদাপুর ইউনিয়নের শাহজাদাপুর গ্রামের মলাইশ-শাহজাদাপুর সড়কের খোয়ালিয়ার পাড়ের ৩১ মিটার লম্বা আরসিসি গার্ডার  ব্রীজটি অনুমোদন হয়। ইউনিয়নের প্রায় ৪০-৪৫ হাজার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছিল। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিলেন ঠিকাদার। প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার এই কাজটিতে শুরূ থেকেই ঠিকাদার অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করছিলেন। রড, সিমেন্ট ও বালুও ঠিকমত দিচ্ছিলেন না। ইটাও ব্যবহার করেছেন নিম্নমানের। কাজেও ছিল দীর্ঘ সূত্রিতার অভিযোগ।  এস.ও কে ম্যানেজ করে যেনতেন ভাবে কাজটি করছিলেন। কৌশলে রশদ দিয়ে বাগে নিয়েছিলেন স্থানীয় কিছু পাতিনেতা ও কথিত কতিপয় সংবাদ কর্মীকে। ফলে নাকে তেল দিয়ে অনিয়মে মেতে ছিলেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলী। কেউ প্রতিবাদ করলেই ঠিকাদার কর্তৃক নয়ছয় বুঝিয়ে ধমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকে। গত মঙ্গলবার ব্রীজের কাজটি সরজমিনে পরিদর্শন করতে যান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার। সাথে ছিলেন উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী, ইউপি চেয়ারম্যান/প্রশাসক। নিজ হাতে হাতুড়ি দিয়ে রেলিং ও গার্ডারের প্লাস্টার ভেঙ্গে চেক করেন। ব্যবহৃত ইটা গুলি প্রকৌশলীকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেন-এগুলি কী? প্রকৌশলী সকলের সামনে বলেন ইটা গুলি ২ নম্বর। এই কাজে ২ নম্বর ইটা ব্যবহারের কোন সুযোগ নেই। ইউএনও বলেন, জনগণের টাকা তছনছ করে এমন অনিয়ম কোন ভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রকৌশলীকে ল্যাব টেষ্টের রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন কাজ বন্ধ থাকবে। শাহজাদাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহবায়ক মো. মোশাররফ হোসেনসহ গ্রামের একাধিক বাসিন্দা বলেন, কাজের শুরূ থেকেই ঠিকাদার ইচ্ছামত নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার সহ নানা অনিয়ম করে আসছেন। ঢালাইয়ের কাজের পাথর ছিল একেবারেই নিম্নমানের। স্থানীয় লোকজন বাঁধা দিয়েছিল। ঠিকাদার এস.ও রহিম সাহেবের শক্তি দিয়ে সব করছেন। আমাদের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নকে নিজের লাভের জন্য ধ্বংস করছেন ঠিকাদার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লোকমান হোসেন-এর স্বত্তাধিকারী মো. লোকমান হোসেন বলেন, কাজের পর ষ্টেনথ্ আসতে কমপক্ষে ২৮ দিন লাগে। কাজ গুলো সরজমিনে প্রকৌশলীরা দেখে আসছেন। যে ইটা গুলো দেখিয়েছেন এই গুলো আমার না। এপ্রোচের সামান্য একটু কাজ। যদি কোন মাল খারাপ পরে থাকে প্রয়োজনে চেইঞ্জ করে নিব। উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ইটা গুলো ২ নম্বর। ইউএনও মহোদয় হতুড়ি দিয়ে রেলবার গুলি ভেঙ্গে দেখে উনার মনে হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার হয়েছে। পরে আমাকে ল্যাব টেষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সাথে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে উনার অনুমতি ছাড়া কাজ শুরূ যাবে না। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকার বলেন, ব্রীজের কাজে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করে সরকার ও জনগণের ক্ষতি করা হচ্ছে। তাই বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। প্রকৌশলীকে ল্যাব টেষ্ট করে রিপোর্ট দিতে বলেছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে