পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া সিইউ টিলায় কবর স্থানের ওপরে নামকাওয়াস্তে পার্ক তৈরী করে অশালীন কার্যকালাপ চালু করে, কবরের ওপর নাচগান করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৪ নভেম্বর শুক্রবার রাতে যাত্রাপালা চলাকালীন সময় সেই মঞ্চ ভেঙে দেয় স্থানীয় জনতা।
পরদিন (১৫ নভেম্বর) শনিবার সকাল ১১টায় লংগদু উপজেলার ইমাম সমিতি ও স্থানীয় তৌহীদি জনতা এক হয়ে পার্কের মালিক আবুল কালামের বিরুদ্ধে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা কবর স্থানের পবিত্রতা নষ্ট এবং পার্কের নামে অশালীন কার্যকালাপ পরিচালনার দায়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পার্কটি বন্ধ ও পার্কের মালিক আবুল কালামকে গ্রেফতারের জন্য আল্টিমেটাম দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎক্ষনাৎ পার্কটি বন্ধ রাখতে বলেন এবং তদন্ত করতে শুরু করেন। এছাড়াও পার্কের মালিককে পার্ক চালু করতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি রেখে পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।
এঘটনায় পরপর পার্কের মালিক স্থানীয়দের বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে অভিযোগ দায়ের করে। যার কোন সমাধান হয়নি।
পরে গত ২৮ ডিসেম্বর লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর অভিযোগ করেন যে, ইউএনও তার কাছ থেকে পার্ক উদ্বোধন করতে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। প্রতিবেদক চাঁদা দাবির প্রমাণ চাইলে তিনি কিছু দেখাতে পারেনি।
এমন অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অভিযোগকারী আবুল কালাম'র ব্যবহৃত ফোন নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে বক্তব্য নেয়স সম্ভব হয়নি।
লংগদু উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুর রশিদ বলেন, আমাদের প্রতিবাদের মুখে পার্ক মালিক আমাদের আলেম ওলামার সাথে বৈঠক করে তখন জানিয়েছিল, পুনরায় তিনি পার্ক চালু করবেনা। যদি পুনরায় এধরণের কার্যক্রম চালু করে স্থানীয় তৌহীদি জনতা আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি বলেছিলেন, যদিও চালু করে তাহলে সেটা হবে কটেজ।
উপজেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল মতিন বলেন, আমরা ইসলাম প্রিয় তৌহীদি জনতা সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো। যদি পুনরায় আবুল কালাম অশালীন কার্যকালাপ করার পায়তারা করে জনতা তার কঠিন জবাব দিবে। তিনি আরও বলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে এমন অহেতুক অভিযোগ জনতা মেনে নিবেনা। একজন দক্ষ ও মানবিক ইউএনওকে এভাবে হেনেস্তার তীব্র নিন্দা জানাই
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। তিনি নিজেই সরকারি খাস জমিতে পার্ক তৈরি করার চেষ্টা করে এবং আমার কাছে তার জায়গা রেকর্ড করে দেওয়ার জন্য আসে। জায়গা রেকর্ড দেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই এটা বলাতে সে আমার ওপর মিথ্যা অভিযোগ আনে। এছাড়াও জায়গাটিতে কবর স্থান রয়েছে যা স্থানীয়দের অভিযোগ।