ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস, বল হাতে নিয়ন্ত্রিত স্পেল, সব মিলিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে আইএল টি-টোয়েন্টির ফাইনালে তুলে দিলেন এমআই এমিরেটসকে সাকিব আল হাসান। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা লড়াই নিশ্চিত করেছে এমিরেটস।
ফাইনালে ওঠার প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হলেও লিগপর্বে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার সুযোগ পেয়েছিল এমআই এমিরেটস। সেই সুযোগই কাজে লাগাল দলটি। কম রানের লক্ষ্য হলেও ম্যাচের চাপ সামলাতে ব্যাটে ও বলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন সাকিব, যিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেই ধাক্কা খায় আবুধাবি নাইট রাইডার্স। দলীয় মাত্র ২ রানেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাইকেল পেপার। ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেন কিছুটা আগ্রাসনের আভাস দিলেও ৮ বলে ১৩ রান করে বিদায় নেন। লিয়াম লিভিংস্টোন মাত্র ৪ রান করে আউট হলে চাপ আরও বাড়ে। এক প্রান্তে ধীরগতির ব্যাটিংয়ে টিকে ছিলেন অ্যালেক্স হেলস। ৩৬ বলে ৩টি চারের সাহায্যে তিনি করেন ২৯ রান।
মধ্য ও শেষের দিকে ইনিংসের ভার টানেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাটার আলিশান শরাফু। চাপের মধ্যেও ধৈর্য হারাননি তিনি। ৪০ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৫০ রান করেন শরাফু। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২০ রানেই থামে আবুধাবির ইনিংস।
এমআই এমিরেটসের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ছিলেন সাকিব আল হাসান। উইকেট না পেলেও চার ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের রানগতি বেঁধে দেন তিনি। তিন উইকেট নিয়ে বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেন আল্লাহ মোহাম্মদ গাজানফার। মোহাম্মদ রশিদ ও ফজলহক ফারুক শিকার করেন দুটি করে উইকেট।
১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায়নি এমআই এমিরেটসও। ৬ রানে ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার এবং ৩৬ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিম ফিরে গেলে চাপে পড়ে দলটি। ঠিক তখনই ইনিংসের দায়িত্ব নেন সাকিব ও টম ব্যান্টন। দুজনের ব্যাটে ম্যাচের চিত্র দ্রুত বদলে যায়।
সাকিব ছিলেন আগ্রাসী ভূমিকায়। একের পর এক বাউন্ডারিতে চাপ সরিয়ে দেন। ২৪ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ রান করে আউট হলেও তখন জয়ের খুব কাছেই পৌঁছে যায় এমিরেটস। অপর প্রান্তে ব্যান্টন ছিলেন স্থির ও ধারাবাহিক। তিনি ৫৩ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
শেষ পর্যন্ত ২৩ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে এমআই এমিরেটস। আবুধাবির হয়ে অজয় কুমার নেন দুটি উইকেট, সুনীল নারিন পান একটি।
এই জয়ের ফলে আইএল টি-টোয়েন্টির চতুর্থ আসরে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল এমআই এমিরেটস। এর আগে ২০২৪ সালের আসরে শিরোপা জিতেছিল দলটি। ৪ জানুয়ারি ফাইনালে এমিরেটসের প্রতিপক্ষ ডেজার্ট ভাইপার্স।