সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে বললেন, “রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী অঙ্গসংগঠন বিলুপ্ত না করে শুধু গঠনতন্ত্র থেকে নাম সরিয়েছে। এ ধরনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে।”
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “অঙ্গসংগঠন বিলুপ্তির শর্ত না মানায় আইনের মূল উদ্দেশ্য ভণ্ডুল হয়েছে। আরপিওতে নিবন্ধনের শর্তের কথা বলা আছে। রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থাকবে না। আইনে লেখা আছে দলগুলোর গঠনতন্ত্রে এ বিধান থাকবে না এবং বিদেশি শাখার বিধান থাকবে না। দলগুলো ঠিকই এই সংগঠনগুলো রেখে দিয়েছে, শুধু তাদের গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দিয়েছে। এটা তারা একটা খেলা খেলেছে। ভাতৃপ্রতিম সংগঠন বলে চালিয়ে দিয়েছে। আইনের উদ্দেশ্য তারা ভণ্ডুল করেছে।” এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বদিউল আলম বলেন, আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা বা জেলা কমিটির সদস্যদের দ্বারা প্রস্তুত প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। কিন্তু বাস্তবে কখনোই প্যানেল তৈরি হয় না। ভবিষ্যতে আইন ও সংবিধান মেনে প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্ট অঙ্গীকার করবে আশা করা যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বলেন, “নির্বাচনী ইশতেহার একটি লিখিত চুক্তি। স্বাক্ষরিত না হলেও এটি ভোটারদের সঙ্গে দলগুলোর চুক্তি। কিন্তু নির্বাচনের পর ইশতেহার ছুড়ে ফেলা হয়। এই চুক্তি অমান্য করলে যেন নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকে, মানুষ যেন প্রশ্ন করার সুযোগ পায় যে দলগুলো তাদের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করেছে।”
‘নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ দিন বদলের সনদ নামে একটি ইশতেহার করেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ তাদের সেই অঙ্গীকার ভুলে গেছে। তার মাশুলও দিতে হয়েছে দলটিকে’-উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলোকে আইন মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না।
বিগত নির্বাচনগুলোতে জয়ী প্রার্থীদের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে বদিউল আলম বলেন, ‘ক্ষমতার সঙ্গে জাদুর কাঠি রয়েছে। রাজনীতিবিদদের জানাতে হবে, ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার যে সুযোগ, রাজনীতির ব্যবসায়ীকরণ ও ব্যবসায়ের রাজনীতিকরণের অবসান তারা কীভাবে ঘটাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও ডিন ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, সুজনের কোষাধ্যক্ষ ও সুজন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নির্বাচন কার্যক্রম সমন্বয়ক একরাম হোসেন এবং সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।