গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে সঙ্গবদ্ধ মাটি খেকোদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও প্রতিরোধের মুখে ভ্রাম্যমাণ আদালত বেকুব রেখেই ফিরলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদুল হক।
খবর পেয়ে গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মাদুলী বিলে অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে মাটি কাটায় ব্যবহৃত একটি এসকেভেটর (বেকু) জব্দ করা হয়। তবে জব্দকৃত বেকুটি বিল এলাকা থেকে মূল সড়কে আনার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চেইন খুলে একটি সরু রাস্তায় আটকে পড়ে। ঠিক সেই সময় রাতের অন্ধকারে স্থানীয় প্রায় একশ থেকে দেড়শতাধিক মানুষ বেকুটির সামনে ও পেছনে জড়ো হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিলে প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জব্দকৃত এসকেভেটরটি ঘটনাস্থলে রেখেই প্রশাসনিক দল নিরাপদে ফিরে আসেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাহিদুল হক জানান, “অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোরভাবে তৎপর রয়েছে। অভিযান চলাকালে মাটি কাটার একটি এসকেভেটর জব্দ করা হয়। তবে মাটি কাটা চক্রের সদস্যরা উৎসুক জনতাকে উসকে দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বেকুটি ঘটনাস্থলে রেখে আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদুলী বিলসহ আশপাশের ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে মাটি সরবরাহ করে আসছে। যার আগামির কৃষি ও কৃষিজমি এবং পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় খুব শিগগিরই পুনরায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।