একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে গত ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়ার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
রিটে বলা হয়েছে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আইনজীবীর যুক্তি অনুযায়ী, সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উল্লেখ নেই। সে কারণে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই। “নির্বাচন হতে পারে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে, নয়তো নির্বাচিত সরকারের অধীনে,” বলেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।
রিটে আরও আবেদন জানানো হয়েছে, ঘোষিত তফসিল কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করা হোক। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আর্জিও জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। এসব আপিলের শুনানি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগে থেকেই আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল। এই রিটের মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় গেল।