খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্ণীছড়ি উপজেলায় দুর্গম ইন্দ্রসিং কার্বারী পাড়া নামক এলাকায় কালো পাহাড় থেকে ৭ কি:মি: পাইপ সংযোগ স্থাপন করে ৩টি পাড়ার প্রায় ৪’শতাধিক পরিবারের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন লক্ষ্ণীছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো: তাজুল ইসলাম। সেনাবাহিনীর সূত্রের দাবি জনমনে অস্থীতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি ও পাহাড়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ব্যপকভাবে বেড়ে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে অভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে যা এখনও চলমান। এসব অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কালাপাহাড় রেঞ্জের দুর্গম এলাকাবাসীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট সম্পর্কে অবহিত হন। স্থানীয় জনগণ ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে, সেনাবাহিনী অভিযানিক কার্যক্রমের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ভাবে দূর্গম এলাকায় পানির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করে। গুইমারা রিজিয়নের ব্যবস্থাপনায় গত ৮ ডিসেম্বর থেকে একটি বৃহৎ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় হাতিছড়া পাড়া, ইন্দ্রসিংপাড়া, শুকনাছড়ি ও পাঙ্কু পাড়া এই চারটি দুর্গম পাড়াকে একীভূত করে নিরাপদ পানির স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। লক্ষীছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে দূর্গম কালাপাহাড় রেঞ্জে পানির লাইন স্থাপনের জন্য সকল প্রকার শারীরিক শ্রম সাপেক্ষ কাজ অত্যন্ত দক্ষতা, নিপুণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ৭ কিঃ মিঃ পানি সরবরাহের পাইপ লাইন এবং সর্বমোট ৮টি পানির রিজার্ভ ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ায় মোট ৩৭৬ পরিবার তথা প্রায় ১হাজর ৭৫০ জন দুর্গম এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছে। গুইমারা রিজিয়ন অধীনস্থ, লক্ষীছড়ি জোনের সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে পানির লাইন স্থাপনসহ সকল প্রযুক্তিগত ও শারীরিক শ্রমসাপেক্ষ কাজ অত্যন্ত দক্ষতা, নিপুণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ২২হাজার ২০০ ফিট পানি সরবরাহ লাইন এবং সর্বমোট ৮ টি পানির রিজার্ভ ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে যার মাধ্যমে প্রকল্প আওতাধীন এলাকার মোট ৩৭৬ পরিবার তথা প্রায় ১হাজার ৭৫০ জন দুর্গম এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন।