কচুয়ায় কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

এফএনএস (আয়শা সিদ্দকা; কচুয়া, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
কচুয়ায় কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

গতকাল রাত আনুমানিক ১ টার দিকে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের  টেংরাখালী গ্রামের হাজারাপাড়া   এলাকার আব্দুল আজিজ মাঝি (৭০) এর মাঠ থেকে কেটে এনে মজুদ রাখা ২ বিঘা জমির ধান ও একটি খড়ের গাদায় দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আনুমানিক দিবাগত রাত ১ টার দিকে দুর্বৃত্তরা  পরিকল্পিতভাবে এই অগুন দিয়েছে  বলে ধারণা করছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। এতে করে ওই দরিদ্র কৃষকের ১ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কৃষক আব্দুল আজিজ মাঝি কয়েক মাস আগে তার একমাত্র পুত্র  সন্তানকে অকালে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে পরিকল্পিত বল ধারণা করছেন।  ইতিমধ্যে উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি সরদার জাহিদ তার নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সাথে এ ধরনের অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এমন ঘটনার সাথে যে বা যাহারা জড়িত তাদের তদন্ত-পূর্বক আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।  দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা না থাকায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কচুয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর কচুয়া থানার লিডার জাফর মোল্লা কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তথ্য দিতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অজুহাতে এধরণের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তথ্য দিতে বাধ্য নয় সাংবাদিকদের। সরকারি আদেশে চিঠির মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের সাক্ষাৎ দিতে নিষেধ আছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা। তবে সেই চিঠির কপি দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এর উপসহকারী পরিচালক মো: বজলুর রশিদ এর সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনিও দায়সারা উত্তর দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় ঘটনাস্থলে যেতে না পারলে তাদের তথ্য দেওয়া নিষেধ বলে সাব জানিয়ে দেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার তথ্য দেওয়ায় লুকোচুরি বিষয়ে হতবাক সাংবাদিকরা। ধারণা করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও হাজরা খালি নতুন বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে ধাওয়া দেয়। আর এমন ভয় থেকেই তথ্য দেওয়ায় লুকোচুরি হতে পারে। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রন করে চলে যান।  তবে তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী হাসান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কম্বল সহ বিভিন্ন সাহায্য করেন ও ভবিষ্যতে আরও সাহায্য করার আশ্বাস প্রদান করেন।  কচুয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।