চলমান শৈত্যপ্রবাহ

বড় ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী

এফএনএস | প্রকাশ: ৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
বড় ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী

চলমান শৈত্যপ্রবাহের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দিনমজুর, পথশিশু, বস্তিবাসী ও গ্রামীণ শ্রমজীবীরা । তাদের কাছে নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, নেই উষ্ণ আশ্রয়, নেই চিকিৎসার নিশ্চয়তা। ফলে শীত তাদের জন্য হয়ে ওঠে এক নীরব দুর্যোগ। শীতকালে ধনী-গরিবের বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শহরের অভিজাত এলাকায় গরম কাপড়, হিটার, আরামদায়ক ঘর- সবই সহজলভ্য। কিন্তু গ্রামের খড়ের ঘর কিংবা শহরের টিনের ছাউনিতে বসবাসকারীদের কাছে শীত মানে কষ্ট, অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও। প্রতিদিন সংবাদপত্রে দেখা যায়, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের মৃত্যুর খবর। অথচ এই মৃত্যুগুলো প্রতিরোধযোগ্য, যদি সমাজ একসাথে দাঁড়ায়। শৈত্যপ্রবাহে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। কাজ না থাকলে আয় নেই, আয় না থাকলে খাবার নেই। ঠান্ডায় কাজ করতে না পারলে তাদের পরিবার অনাহারে দিন কাটায়। শীতের রাতে ফুটপাথে শুয়ে থাকা মানুষদের দিকে তাকালে বোঝা যায়, মানবিক সহায়তা কতটা জরুরি। এখন প্রশ্ন হলো- আমরা কী করছি? সরকার কিছু উদ্যোগ নেয়, যেমন ত্রাণ হিসেবে কম্বল বিতরণ। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। দেশের প্রতিটি দরিদ্র মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এখানে প্রয়োজন সামাজিক সংহতি। ধনী-সম্ভ্রান্ত মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন- সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। শীতবস্ত্র সংগ্রহ অভিযান, উষ্ণ খাবার বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র- এসব উদ্যোগ হতে পারে জীবনরক্ষাকারী। শীত শুধু শারীরিক কষ্টই নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও ডেকে আনে। কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারে না, দিনমজুররা কাজ হারায়, শ্রমঘন শিল্পে উৎপাদন কমে যায়। ফলে দরিদ্র মানুষের আয় আরও কমে যায়। তাই শীতকালীন সহায়তা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও অংশ। আমাদের মনে রাখতে হবে, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা। শীতবস্ত্রের একটি চাদর, একবেলা গরম খাবার, কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়- এসব ছোট উদ্যোগই হতে পারে কারও জীবনের বড় রক্ষাকবচ। শৈত্যপ্রবাহে কাঁপতে থাকা মানুষদের দিকে তাকিয়ে আমরা যদি নির্লিপ্ত থাকি, তবে তা আমাদের মানবিকতার ব্যর্থতা। আজ দরকার একসাথে দাঁড়ানো, দরিদ্রদের পাশে থাকা, তাদের কষ্ট ভাগ করে নেওয়া। শীতের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু আবহাওয়ার সঙ্গে নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্ববোধেরও পরীক্ষা।