জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগ মূলত জুলাই বিপ্লবের বীরদের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি দিতে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য নিশ্চিত করেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছেন। আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিলেন, তার জন্য তাদের দায়মুক্তি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের আইন প্রণয়ন বৈধ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।”
ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তি আইনের স্পষ্ট বৈধতা রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আইন করা হয়েছিল। সেই ধারায় এবার জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদেরও সুরক্ষা দেওয়া হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “আরব বসন্তসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিপ্লবের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের সুরক্ষায় এ ধরনের আইন করা হয়েছিল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে-এ এটি পুরোপুরি আইনসম্মত।” তিনি আরও জানান, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই অধ্যাদেশের খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং শিগগিরই উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
ড. আসিফ নজরুল শেষ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে তারা আইনি আশ্বাস পাবেন এবং গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে।”