নীলফামারীতে ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
নীলফামারীতে ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া

সীমান্তবর্তী জনপদ নীলফামারীতে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। উন্নয়ন, বঞ্চনা আর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে মুখর সাধারণ মানুষ। দলগুলো ব্যস্ত তাদের কর্মতৎপরতা ও অর্জনের ফিরিস্তি ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে। এরই মধ্যে জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। তবে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে বিএনপি। চারটি আসনের মধ্যে এখনো দুটিতে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। আবার যেসব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সেখানেও দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও আন্দোলন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচারে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চার আসনেই বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

নীলফামারী - ০১ আসন ( ডোমার ও ডিমলা)  ঃ সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসন।  অতীতে এ আসনে আওয়ামী লীগ,বিএনপি, জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়েছেন। এবার তাদের অনুপস্থিতিতে আসনটি দখলে মরিয়া জামায়াত।  তবে এখনো এ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তা কাটেনি। জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীকে দেয়া হয় এ আসন। তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রার্থী জটিলতা। ফলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও তেমন উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে জামায়াত অনেক আগেই জেলা আমির অধ্যক্ষ আবদুস সাত্তারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলনরত অন্যান্য দলগুলোর সমর্থন পেলে তাকে পরাজিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি অংশ। নীলফামারী-২ (সদর) আসন ঃ এ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অতীতে আওয়ামী লীগকে এখানে বারবার জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় পুরোনো অবস্থান পুনরুদ্ধারে তৎপর জামায়াত। জামায়াত প্রার্থী করেছে জেলা বারের সভাপতি ও সহকারী সেক্রেটারি আল ফারুক আবদুল লতিফকে। আওয়ামী আমলে মামলা-হামলার শিকার হওয়া এই নেতার এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন। বিএনপির জেলা সদস্য সচিব এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেলকে বাদ দিয়ে তাকে দেয়া হয়। এ আসনে এনসিপির প্রার্থী ডা.কামরুল ইসলাম দর্পনও প্রচারে সক্রিয়। ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলও নিজেদের অবস্থান জোরদারে কাজ করছে। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসন ঃ একক উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটি জামায়াতের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। অতীতে তিনটি সংসদে জামায়াতের এমপি ছিলেন এখান থেকে। এবার দলটি প্রার্থী করেছে জেলা শূরা সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীকে। তিনি ইউনিয়নভিত্তিক উঠান বৈঠক, সভা ও সেমিনার করেন । দলীয় গণ্ডির বাইরে সাধারণ ভোটারদের কাছেও পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তিনি। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক জেলা সহসভাপতি ও দুবারের উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী। তবে আরো দুইজন মনোনয়ন নিয়েছেন বিএনপি দাবি করে। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসন ঃ এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ।  এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও রিয়াদ আরফান সরকার রানা।  জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক এমপি সিদ্দিকুল আলম মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিমকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনিও নির্বাচনি মাঠে বেশ জনপ্রিয়। হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রচারে নেমেছে জামায়াতে ইসলামী।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে