জামায়াত নেতার হস্তক্ষেপে

তানোরে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে রফাদফা

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী | প্রকাশ: ১০ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
তানোরে কিশোরী অপহরণের অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে রফাদফা
রাজশাহীর তানোরে এক প্রবাসীর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সি কিশোরী কন্যাকে অপহরণের পর গ্রাম্য সালিসে রফাদফার অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীর বাড়ি তানোর উপজেলার কলমা ইউপির অমৃতপুর গ্রামে। তার নাম বিপুল (১৮)। পিতার নাম লিটন। তিনি বনকেশর ব্রীজঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে তানোর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বখাটে বিপুল দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে প্রেমের কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সাড়া না পেয়ে বিভিন্ন সময় পথে-ঘাটে তাকে উত্যক্ত করে। বিষয়টি অনেক আগেই বিপুলের পরিবারকেও জানানো হয়। সম্প্রতি ৫ জানুয়ারি সকালে জনৈক শফিকুল ওরফে বাদলের সহযোগিতায় বিপুল কিশোরীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর তারা দুইদিন দু’রাত আত্মগোপনে থাকেন। কিন্তু থানায় অভিযোগ করার পর থেকেই তুলে নিতে বাদিকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া শুরু করেন বিপুলের পরিবার। এরপর ৭ জানুয়ারি তানোর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম মোল্লার উদ্যোগে কামারগাঁ ইউনিয়নের শ্রীখন্ডা গ্রামে তার বাসভবনে একটি শালিস বৈঠক বসান। সেখানে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের কাছ থেকে মামলা না করার মুচলেকা নিয়ে কিশোরী ও অভিযুক্ত যুবককে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে, অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ কি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসাযোগ্য? তিনদিন ধরে কিশোরী অভিযুক্তের সঙ্গে থাকার দায়ভারই বা কার? কারণ ওই কিশোরীর শারীরিক অবস্থা বিধস্ত বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরীর এক স্বজন বলেন, তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এবং সালিশের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হয়েছেন। কিশোরীর সঙ্গে ওই যুবক দু’দিন আত্নগেপনে ছিল। অবশ্যই তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে, তাহলে এর দায় নিবে কে? তারা এবিষয়ে মানবাধিকার কমিশন বা সংগঠনগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে, এনিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মোল্লা বলেন- এটি আনুষ্ঠানিক সালিশ নয়। দুই শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঘরোয়া ভাবে বসে কেউ মামলা করবেন না মর্মে মুচলেকা নিয়ে মেয়েটিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে এড়িয়ে গেছেন তিনি। এব্যাপারে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে হারানো জিডি করা হয়। এরপরও কেউ শিক্ষার্থী অপহরণের অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি। ই/তা
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে