পৌষ সংক্রান্তিতে গুডি খেলা নিয়ে মাতে হাজার হাজার জনতা

এফএনএস (মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ; ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ) :
| আপডেট: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম | প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
পৌষ সংক্রান্তিতে গুডি খেলা নিয়ে মাতে হাজার হাজার জনতা

এক মন ওজনের পিতালের গুডি পালিশ করার কাজ শেষ। গ্রামের ১০/১২ টি স্থানে উচ্চ স্বরে বাজানো হচ্ছে গান। দলে দলে আত্নীয় স্বজন আসছে বাড়ীতে নতুন জামা কাপড় পড়েছে শিশুরা। শতাধিক গরু জবাই হয়েছে। পুরো গ্রামে যেন ঈদের আনন্দ বইছে।  প্রতি বছর পৌষের শেষ বিকালে এমন ব্যতিক্রমি আয়োজন হয়ে আসছে প্রাচীনকাল থেকে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের জমিদার আমলের তালুক-পরগনা সীমানায় ২৬৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুডি খেলা নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার লক্ষীপুর বড়ইআটা গ্রামে ধানের পতিত জমিতে ২৬৭তম গুডি খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ( ১৩ জানুয়ারি) খেলার আয়োজকরা ট্রাক সাজিয়ে ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছ, ফুলবাড়ীয়া ও ত্রিশাল উপজেলা ট্রাকের উপর গুটি রেখে মানুষদের খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়াও খেলাকে কেন্দ্র করে মন্ডলবাড়ি গ্রামে বিভিন্ন খেলাধুলাসহ গ্রামীণ সংস্কৃতি তোলে ধরেন হুম গুডি স্মৃতি সংসদ। প্রায় তিন শতাব্দি ধরে খেলাটি চালু থাকলেও মূলত আলোচানায় আসে মুক্তাগাছার জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী ও ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেম চন্দ্র রায়ের জমির সীমানা বিরোধ মিমাংসার পর। ‘পরগনা ও তালুক’ জমির পরিমাপ বিরোধ মিমাসংাকল্পে দুই জমিদারের প্রজাদের মধ্যে কৌশল ও শক্তি পরীক্ষার গুটি খেলার আয়োজন করেন। জমিদার আমল থেকে ফুলবাড়িয়ার বড়ইআটা গ্রামে তালুক-পরগনা সীমান্তে প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিন দুপুরে খেলাটির আয়োজন করে স্থানীয় হুম গুডি স্মৃতি সংসদ। সরেজমিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গুডি খেলার স্থানে মুক্তাগাছার থেকে মনির সাউন্ড সিস্টেম থেকে আনা হয়েছে বড় বড় সাউন্ড বক্্র। আকাশ নামের একজন জানান, তারা ভাড়ায় এসেছেন গুডি খেলার মাঠে। প্রায় আড়াইশ বচরের অধিক সময় ধরে এখানে গুডি খেলা চলছে। লক্ষীপুর গ্রামের শরাফ উদ্দিন জানান, গুডি খেলা আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য আমার বাপ দাদাসহ তারও আগে থেকে তালুক-পরগনা সীমানায় গুডি খেলা চলছে। বাংলা বছরের শেষ মাস পৌষের শেষ বিকালে যুগের পর যুগ ধরে গুডি খেলা চলছে। খেলার ১ সপ্তাহ আগে আত্নীয় স্বজন আসে বাড়ীতে। আমরা প্রতি বছর ঈদের মত আনন্দ করি। হুমগুডি পরিষদের পরিচালক নাট্যকার এবি সিদ্দিক জানান, কবে থেকে গুডি খেলা শুরু হয়েছে তার সঠিক হিসাব খোজে পাওয়া কঠিন। তবে এটি একটি প্রাচীন খেলা। বুধবার বিকাল ২ টায় তালুক-পরগনা সীমানায় ২৬৭ বছরের ঐতিহ্যের গুডি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা এরই মধ্যে সকল আয়োজন শেষ করেছি। হাজার হাজার মানুষ খেলায় আগমন ঘটলেও আজ পর্যন্ত খেলাতে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।