আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের ভেতরে আসন সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তেও টানাপোড়েন কাটেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে মতভেদ থাকায় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। তবে জোট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর সন্ধ্যায় আসন সমঝোতার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জোটের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ১১ দলের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে আট দলের আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। মূল জটিলতা তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ঘিরে। মঙ্গলবার দিনভর ও রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক হলেও এই দুই দলের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরুতে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চাইলেও আলোচনার ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে সেই দাবি কমিয়েছে। সর্বশেষ দলটির দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন। তবে জামায়াত তাদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসন ছাড় দিতে আগ্রহী। এ ব্যবধান নিয়েই দলটির ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয়। দলীয় সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনের একটি অংশ মনে করছে ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে সমঝোতা সম্ভব হলেও বড় অংশ কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে সমঝোতা পুনর্বিবেচনার পক্ষে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে দলটির শুরা কাউন্সিল বৈঠক শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গেও জামায়াতের দর-কষাকষি থমকে আছে। দলটি ২৫ থেকে ৩০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০টি আসনে ছাড় দিতে চায়। খেলাফত মজলিসের এক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে তারা প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি ভাবছেন। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, জামায়াতের অবস্থান এখনো আগের মতোই রয়েছে এবং আবার বৈঠক হলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “দু-একটি আসন নিয়ে যে ঝামেলা তৈরি হয়েছে, সেটি শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।”
জোটের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানায়, প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ৪ থেকে ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ তালিকায় ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য দলগুলো সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ১১ দল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আসন সমঝোতার ঘোষণা আসতে পারে। ১১ দলভুক্ত জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধানও ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে চূড়ান্ত আসন তালিকা ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে যদি ইসলামী আন্দোলন বা খেলাফত মজলিস সমঝোতার বাইরে থাকে, তবে জোটের ঐক্যে তা প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আজকের বৈঠককে ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।